হার্ভার্ডকে ফের শাস্তি ট্রাম্প প্রশাসনের, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ

হার্ভার্ডকে ফের শাস্তি ট্রাম্প প্রশাসনের! আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির অধিকার কেড়ে নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, গোটা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উপরই…

May 23, 2025
1 min read

হার্ভার্ডকে ফের শাস্তি ট্রাম্প প্রশাসনের!

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির অধিকার কেড়ে নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, গোটা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উপরই বড়সড় আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০০ ও ৪৫ কোটি ডলারের অনুদান বন্ধ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী দুই ধাপে। এ বার সরাসরি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছ থেকে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে প্রশাসনের যুক্তি—হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়োম এই সিদ্ধান্তকে ‘সতর্কবার্তা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন মনে রাখে, আইন অমান্য করলেই এই রকম শাস্তি আসতে পারে। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “এই পদক্ষেপ আইনের প্রতি অবহেলার ফল।”

তবে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত বেআইনি এবং উচ্চশিক্ষার আদর্শ ও বৈচিত্র্যের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের লক্ষ্য হল এই বৈচিত্র্যের মাধ্যমে জাতিকে সমৃদ্ধ করা। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত শুধু আমাদের শিক্ষার মানসিকতাকেই আঘাত করে না, গোটা দেশের অগ্রগতিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে আমেরিকার বাইরে থেকে প্রায় ৭,০০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল হার্ভার্ডে, যা মোট ছাত্রসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি হার্ভার্ডের গবেষণা ও শিক্ষাদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে সামনে—সম্প্রতি আমেরিকাজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যালেস্টাইন-পন্থী বিক্ষোভ এবং ইহুদি বিদ্বেষ নিয়ে বিতর্ক। প্রশাসনের দাবি, এসব প্রতিবাদ ইহুদি-বিরোধী মনোভাব উসকে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি রুখতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রেখেছিল প্রশাসন, যার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষাদান পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের নির্দেশ ছিল।

তবে হার্ভার্ড প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ইহুদি বিদ্বেষ প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকারের দেওয়া শর্তগুলোকে তারা ‘বৌদ্ধিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, প্রশাসনের এই শর্ত মানতে অস্বীকার করাই হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে নতুন করে এই কড়া পদক্ষেপের কারণ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ও আন্তর্জাতিক শিক্ষামহলে নড়েচড়ে বসেছে অনেকে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ও বৈচিত্র্যে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বার্লি আর চিয়ার জল: কিডনির যত্নে সুস্বাদু ওজন কমানোর নয়া উপায়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *