হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে লাগোয়া এলাকায়, চোখধাঁধানো অভিজাত পরিবেশে গোপনে চলছিল একটি বিলাসবহুল যৌনপল্লি। আমেরিকার আইনরক্ষকদের স্টিং অপারেশনে ফাঁস হয়ে যায় এই গোপন দুনিয়া। আর এই চাঞ্চল্যকর মামলায় উঠে এসেছে এক চেনা নাম—ভারতীয় বংশোদ্ভূত সফল ব্যবসায়ী ও সিইও, অনুরাগ বাজপেয়ী।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুরাগকে গ্রেফতার করে বস্টনের পুলিশ, তবে ঘটনাটি এত দিন আড়ালেই ছিল। সম্প্রতি আদালতের প্রকাশিত নথিতে তাঁর নাম উঠে আসার পরেই বিষয়টি সামনে আসে, আর হইচই পড়ে যায় ব্যবসায়ী মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অনুরাগ, জল পরিশোধনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ‘গ্র্যাডিয়েন্ট’ নামক মার্কিন সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। এমআইটি-তে পড়াশোনা করা এই প্রবাসী ভারতীয়, বিশ্বের জল পরিশোধন শিল্পে একটি বড় নাম হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ‘গ্র্যাডিয়েন্ট’ এখন শত কোটি ডলারের কোম্পানি, যা ২৫টিরও বেশি দেশে কাজ করে।
তবে সম্প্রতি তিনি যুক্ত হয়েছেন এক ভয়াবহ অপরাধচক্রে। ‘কেমব্রিজ ব্রথেল কেস’ নামে পরিচিত এই মামলায় অভিযোগ, হার্ভার্ড সংলগ্ন এক অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে গোপনে চলছিল যৌনপল্লি। এখানে কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ, চিকিৎসক, সরকারি কর্তা থেকে শুরু করে বিশিষ্ট আইনজীবীরাও ছিলেন নিয়মিত ‘গ্রাহক’।
এই যৌন পরিষেবা পেতে হতো কড়াকড়ি যাচাই—সরকারি পরিচয়পত্র, অফিস ব্যাজ, এমনকি ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও জমা রাখতে হতো। পরিষেবার মূল্য? ঘণ্টাপ্রতি ৬০০ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার টাকা!
তদন্তকারীদের দাবি, এই ‘ব্রথেল’-এ যে মহিলারা কাজ করতেন, তাঁদের অনেককেই এশিয়া থেকে পাচার করে আনা হয়েছিল। মানব পাচার থেকে শুরু করে যৌনতা কেনাবেচা—সব মিলিয়ে এই ঘটনার পরিধি ভয়াবহ।
এখনও পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে মামলায়। অনুরাগের পাশাপাশি আরও কয়েকজন সিইও-র নামও রয়েছে। যদিও সবচেয়ে বেশি চর্চা অনুরাগকে ঘিরেই। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইল, শিক্ষা ও কর্মজীবন ঘাঁটতে শুরু করেছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।
সমালোচনার ঝড় উঠেছে অনুরাগের সংস্থা ‘গ্র্যাডিয়েন্ট’-এর দিকেও। যদিও সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিচার ব্যবস্থার উপর পূর্ণ আস্থা রাখে এবং অনুরাগের পাশে রয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থা বলেছে, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, সত্যের জয় হবে এবং আমাদের কাজ চলবে বিশুদ্ধ জলের প্রযুক্তি উন্নয়নে।”
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—যিনি বিশুদ্ধ জলের বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, সেই অনুরাগ বাজপেয়ী নিজেই কি জীবনের সবচেয়ে বড় কলুষে জড়িয়ে পড়লেন? সমাজের সম্মানিত স্তরে থাকা একজন মানুষ কীভাবে এতটা নিচে নামতে পারেন—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সকলের মনে।
এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। শোনা যাচ্ছে, গ্রাহকদের নাম ও যোগাযোগের পদ্ধতি নিয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এই গোপন অপরাধজগৎ এতদিন ধরা পড়েনি, সেটাই এখন প্রধান প্রশ্ন।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—ছদ্মবেশের আড়ালে থাকা অপরাধকে চিহ্নিত করা যতটা কঠিন, ততটাই জরুরি। বিশেষ করে যখন তা সমাজের প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে জড়িত।
চিন বাদে সব দেশের উপর শুল্কনীতি স্থগিত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে ফিরল স্বস্তি