উত্তরপ্রদেশে দলিত পরিবারকে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর্বর মারধর
উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার রসড়া শহরে ঘটে গেল এক বিভীষিকাময় ঘটনা। ‘দলিত’ পরিচয় নিয়েই বিয়েবাড়ি ভাড়া নেওয়ার সাহস দেখানোর ‘অপরাধে’ বর-কনের পরিবারকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাল দুষ্কৃতীরা। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউ।
বিয়ে ভাড়া নেওয়াটাই যেন অপরাধ!
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে, বালিয়ার রসড়া এলাকার ‘স্বয়ম্বর ম্যারেজ হল’-এ। বিয়ের সাজে আনন্দে মাতোয়ারা পরিবেশ। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আচমকা হানা দেয় প্রায় ২০ জনের একটি দল। প্রত্যেকের হাতে রড ও লাঠি। ঢুকেই শুরু হয় গালিগালাজ। কনের আত্মীয়দের উদ্দেশে চিৎকার করে একজন বলে ওঠে, “দলিত হয়ে তোরা কোন সাহসে বিয়েবাড়ি ভাড়া করিস?”
পর মুহূর্তেই শুরু হয় মারধর। বর-কনের পরিবারের একাধিক সদস্যকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আতঙ্কে জর্জরিত অনুষ্ঠানের অতিথিরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। দুইজন গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লজ্জার প্রশ্ন: দলিতদের কি বিয়ের অধিকার নেই?
এই জঘন্য হামলা শুধু একটি পরিবারের উপর আক্রমণ নয়, এটি দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর বৈষম্য ও ঘৃণার প্রতিফলন। আক্রান্ত রাঘবেন্দ্র গৌতম পরদিন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আমন সাহনি, দীপক সাহনি, রাহুল এবং অখিলেশ নামের স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় স্থানীয় লোকজন ছাড়াও বহিরাগতরাও অংশ নেয়।
আইনি পদক্ষেপ হলেও প্রশ্ন থাকছেই
রসড়া থানার ইন-চার্জ বিপিন সিংহ জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ছাড়াও তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনেও মামলা রুজু করা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, যখন আক্রান্ত পরিবার পুলিশের কাছে গিয়েছে এবং নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেছে, তা সত্ত্বেও কেন এতদিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি? প্রশাসনের এই ঢিলেমি কি প্রকারান্তরে দোষীদের উৎসাহ দিচ্ছে না?
সমাজের আয়নায় প্রতিফলিত হিংসা
এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে, সমাজে দলিতদের প্রতি বিদ্বেষ এখনও কতটা গভীর। শুধু অর্থ খরচ করে একটি বিয়েবাড়ি ভাড়া নেওয়া, যেখানে অন্যান্যরা অবলীলায় অনুষ্ঠান করে থাকেন, সেটাই হয়ে উঠেছে হিংসার কারণ।
অনেক ক্ষেত্রেই এমন ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন বা সমাজপতিরা ‘সমঝোতা’র কথা বলেন, যাতে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু যে ভয়, অপমান, এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ওই পরিবার, তার কী হবে?
উপসংহার:
এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ যত দ্রুতই হোক না কেন, সমাজে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে এমন ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে। শুধুমাত্র আইনের বইয়ে সমতা থাকলেই চলবে না—তার বাস্তব প্রয়োগে বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে হবে।
‘লুক’ ফিরল, জয়ের ইঙ্গিত? হার্দিক পাণ্ড্যের রূপ বদল ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে