শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল নবান্ন অভিযান!
নতুন করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সপ্তম বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ফের পরীক্ষার শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমেছেন এসএসসি-র চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের কথায়, এটা নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অপমান ও অবিচারের ছায়ায় গড়ে ওঠা এক পক্ষপাতদুষ্ট নীতি। শুক্রবার সেই অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটল শিয়ালদহ থেকে নবান্ন অভিযানে। যদিও মিছিল শুরুর আগেই পুলিশি হস্তক্ষেপে থমকে গেল আন্দোলনের গতি।
পুলিশি বাধায় থমকে গেল আন্দোলন, উঠল বেছে বেছে গ্রেফতারের অভিযোগ
চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ, তাঁদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির কথা আগেই পুলিশের কাছে জানানো হয়েছিল। মেল মারফত সমস্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। তবুও, যাঁরা আন্দোলনে সক্রিয়, তাঁদের টার্গেট করে ‘বেছে বেছে’ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুধু শিয়ালদহ নয়, ধর্মতলা ও সল্টলেক থেকেও ধরপাকড় চালানো হয়। আন্দোলনের মুখ মেহবুব মণ্ডল বলেন, “প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে জোর করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে, যাঁরা শুধুমাত্র তাঁদের অধিকারের দাবিতে পথে নেমেছিলেন।”
আন্দোলনের অন্যরকম প্রতিবাদ: অর্ধনগ্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি
বিক্ষোভ থামাতে পুলিশ যতই চেষ্টা করুক, আন্দোলনের তেজ কমেনি। এ দিন বিক্ষোভে এক অভিনব প্রতিবাদ দেখা গেল—অর্ধনগ্ন অবস্থায় নবান্ন অভিযানে শামিল হন কিছু শিক্ষক। তাঁদের মতে, এই শ্লীলতাহানির মধ্যেই ফুটে উঠেছে তাঁদের অপমান ও বঞ্চনার বাস্তব ছবি।
রবিবার ধিক্কার দিবস, রাজ্য জুড়ে নাগরিক সমাজকে আহ্বান
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার রাজ্য জুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’-এর ডাক দিয়েছেন চাকরিহারারা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, এবার লড়াই হবে আরও ব্যাপক, আরও সংগঠিত। কেবল কলকাতা নয়, জেলায় জেলায় নাগরিক সমাজকে পাশে নিয়ে এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মুক্তি না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন।
নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার নিয়মে হতাশা, প্রশ্নের মুখে SSC
শুক্রবারই স্কুল সার্ভিস কমিশন নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তার আগেই নতুন পরীক্ষার বিধিও ঘোষণা করা হয়, যেখানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও ক্লাস নেওয়ার দক্ষতা বিচার্য বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু চাকরিচ্যুতদের প্রশ্ন, “মাত্র দু’মাসে নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কি সম্ভব? আমরা কি মেধাহীন? তাহলে এতদিন স্কুলে পড়িয়েছি কীভাবে?”
চাকরিহারাদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে ‘দ্বিচারিতা’ করা হচ্ছে। এক চাকরির জন্য আবার পরীক্ষা, আবার প্রস্তুতি—এই চক্রে বারবার তাঁদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই আন্দোলন আপাতত সেন্ট্রাল পার্কে গড়িয়েছে হাই কোর্টের নির্দেশে। কিন্তু দাবিদাওয়া অনড়, ক্ষোভ তীব্র, আর প্রতিবাদের রূপ এখন আরও দৃঢ়।
আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!