শিলিগুড়ি করিডরের পাশে চিনা সহায়তায় বিমানঘাঁটি? বাংলাদেশের উদ্যোগে উদ্বেগে ভারত

শিলিগুড়ি করিডরের পাশে চিনা সহায়তায় বিমানঘাঁটি? ভারতের নিরাপত্তার সংবেদনশীল একটি অঞ্চল হল শিলিগুড়ি করিডর। এই করিডরের আশপাশে কোনও বিদেশি প্রভাব বাড়লে তা যে দেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা…

May 23, 2025
1 min read

শিলিগুড়ি করিডরের পাশে চিনা সহায়তায় বিমানঘাঁটি?

ভারতের নিরাপত্তার সংবেদনশীল একটি অঞ্চল হল শিলিগুড়ি করিডর। এই করিডরের আশপাশে কোনও বিদেশি প্রভাব বাড়লে তা যে দেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে বারবার সতর্ক করে এসেছে কূটনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আর এবার সেই করিডরের গা ঘেঁষেই বাংলাদেশ চিনা সহায়তায় একটি পুরনো বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা নিয়ে ভারতের তরফে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান শাসক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর প্রশাসনের অধীনে লালমনিরহাট জেলার একটি বিমানঘাঁটি নতুন করে সক্রিয় করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা এই ঘাঁটি তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকার কিছুদিন তা ব্যবহার করলেও, বহু বছর ধরেই এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। শেখ হাসিনার সরকার এখানে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার কথা বললেও, ইউনূস প্রশাসন বরং মিলিটারি ব্যবহারের দিকেই বেশি আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘাঁটির অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। লালমনিরহাট জেলা ভারতের জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের লাগোয়া, আর এই ঘাঁটি ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শিলিগুড়ি করিডরের দূরত্বও প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। আর এই করিডরই দেশের মূলভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগরক্ষা করে। এর ভৌগোলিক অবস্থান এতটাই সংকীর্ণ যে, কোথাও কোথাও প্রস্থ মাত্র ২০ কিলোমিটার।

শুধু ভৌগোলিক নয়, কৌশলগত দিক দিয়েও শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। এই করিডর দিয়েই উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে জাতীয় সড়ক, রেলপথ, সামরিক এবং বাণিজ্যিক যোগসূত্র বজায় থাকে। এখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। এর আশেপাশেই ঘটেছে অতীতে চিনের সঙ্গে দু’টি বড় সীমান্ত সংঘর্ষ—১৯৬৭-তে নাথু লা ও ২০১৭-তে ডোকলাম।

এমন পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটে একটি বিমানঘাঁটি গড়ে তুলতে চিনা সহযোগিতা চাওয়া মানে, ভারতের নিরাপত্তা বলয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেওয়া। ভারতের প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহার মতে, “বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যে চিন ও পাকিস্তানকে ভারতের দোরগোড়ায় এনে বসাতে চাইছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। প্রয়োজনে ভারত খুব দ্রুত ওই ঘাঁটিকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম, যেমনটা আমরা অপারেশন সিঁদুর-এ দেখেছি।”

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশের স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যতই উত্তাল হোক না কেন, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের মতো প্রতিবেশীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে ফেলে দেওয়া কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মহল এখন কড়া নজর রাখছে লালমনিরহাটের দিকেই।

বার্লি আর চিয়ার জল: কিডনির যত্নে সুস্বাদু ওজন কমানোর নয়া উপায়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *