কিস্তওয়ারে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই
জম্মু-কাশ্মীরের উত্তপ্ত আবহে ফের জঙ্গি সক্রিয়তার খবর মিলতেই তৎপর হল নিরাপত্তাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকালে কিস্তওয়ার জেলার সিংপোরা এলাকায় শুরু হয় নিরাপত্তাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই।
গোপন সূত্রে খবর ছিল, ওই এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে তিন থেকে চারজনের একটি জঙ্গি দল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কিস্তওয়ারে অভিযান চালায় সেনা ও পুলিশ বাহিনী। এলাকায় পৌঁছতেই জঙ্গিরা গুলি ছোড়ে, পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সংঘর্ষের পর এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
গত এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই উপত্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় চালানো হচ্ছে ধারাবাহিক তল্লাশি ও অভিযান। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে, এবং গোপনে হামলার ছক কষছে।
সিংপোরার এই সংঘর্ষ তারই ধারাবাহিকতা বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞেরা। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিদের ছোড়া গুলি প্রতিহত করা হচ্ছে এবং তাঁদের খোঁজে পুরো এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চলছে।
এর আগেও, চলতি মে মাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান ও পুলওয়ামার ত্রাল এলাকায় দুই পৃথক অভিযানে মোট ছ’জন জঙ্গিকে খতম করেছে বাহিনী।
জঙ্গি দমনে চালানো এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৬ মে শুরু হয় ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চিহ্নিত ৯টি জঙ্গিঘাঁটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। সেনা জানায়, ওই হামলা ছিল পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা।
যদিও এখনো পর্যন্ত ওই হামলার মূল চক্রীদের হদিস মেলেনি, তাদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই প্রেক্ষাপটেই কিস্তওয়ারে নতুন সংঘর্ষকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “জঙ্গিরা সশস্ত্র অবস্থায় এলাকায় লুকিয়ে ছিল। আমাদের বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সংঘর্ষে জবাব দেয়। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তল্লাশি চলছে।”
উল্লেখযোগ্য ভাবে, কিস্তওয়ার আগে অতটা জঙ্গি হানার জন্য পরিচিত না হলেও, গত কয়েক বছরে ওই পার্বত্য এলাকা ধীরে ধীরে নতুন করে জঙ্গিদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে। পাহাড়ি পথ ও বনজঙ্গলের সুযোগ নিয়ে আত্মগোপন করছে তারা।
নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব ওই জঙ্গি দলকে নিষ্ক্রিয় করা এবং বড় ধরনের হামলার আগেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
সব মিলিয়ে, জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি বিরোধী লড়াইয়ে কিস্তওয়ারের এই সংঘর্ষ হয়ে উঠেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিরাপত্তাবাহিনীর লক্ষ্য একটাই — শান্তি ও স্থিতি ফিরিয়ে আনা, এবং জঙ্গিদের প্রতিটি ছককে চুরমার করে দেওয়া।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঘোমটা ঢাকা জাহ্নবী! লাল গালিচায় মা শ্রীদেবীর ছায়া যেন ফিরল মেয়ে রূপে