সোজাসাপটা সৌরভ পালধি!
“আমি কিন্তু বিদেশে পাঠাব বলে ছবি বানাইনি। দারিদ্রকে কখনও হাতিয়ার করাও ছিল না লক্ষ্য”— এমন স্পষ্ট কথা বললেন পরিচালক সৌরভ পালধি। তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অঙ্ক কী কঠিন’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশংসার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তবে পরিচালক বলছেন, এই ছবি কোনও প্রজেক্ট নয়, বরং একটি স্বপ্ন, যা শিশুদের জন্য সুন্দর একটা পৃথিবী তৈরির কথা বলে।
অঙ্কের ভয় নিয়ে প্রশ্ন করতেই সৌরভ হেসে বলেন, “অঙ্কই তো আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় ছিল! তাই কমার্স নিয়েই পড়াশোনা করেছি।” কিন্তু ছবির ‘অঙ্ক’ অন্যরকম। “এটা কোনও যুদ্ধের গল্প নয়, বরং যারা যুদ্ধ চায় না, যারা শুধু ভালবাসা আর শান্তির স্বপ্ন দেখে— তাদের গল্প,” বলেন তিনি।
ছবির ভাবনার সূত্রপাত করোনাকালে। তখন সৌরভ দেখেছেন একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। “যে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, সেই স্কুলগুলোর গেটেই ঝুলছে তালা। গরিব শিশুরা তো নামী স্কুলে পড়ার সুযোগ পায় না, তাদের স্বপ্নের একমাত্র ঠিকানা এই সরকারি বা অবৈতনিক স্কুলগুলো। ওগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছোটদের স্বপ্নও বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল,” বলেন সৌরভ। সেই শিকড় থেকেই গড়ে উঠেছে তাঁর ছবি ‘অঙ্ক কী কঠিন’।
তারকাবিহীন এই ছবি নিয়ে বাণিজ্যের প্রশ্ন উঠতেই সৌরভ স্পষ্ট বলেন, “তারকাদের নিয়ে সব ছবি হিট হয় না। দর্শক ভাল ছবি খুঁজে নেয়। আমারও বিশ্বাস, যদি বিষয় আর অভিনয় ভাল হয়, তবে ছবিও সফল হবে।” পার্নো মিত্রকে নায়িকা হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, “চরিত্রটি লেখার সময় থেকেই মনে হয়েছিল পার্নোই উপযুক্ত। আর নায়ক প্রসূন জনপ্রিয় মঞ্চাভিনেতা, তাই দু’জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চাইছিলাম।”
শিশুশিল্পীদের নিয়েও পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। “ওরা গান করে কথা বলতে অভ্যস্ত, সেটাই বদলাতে সময় লেগেছে। কিন্তু ওদের শিখে নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। ফলে ওদের নিয়ে কাজ করাও আরামদায়ক ছিল,” জানালেন পরিচালক।
ছবির শুটিং হয়েছে রাজারহাট-নিউটাউনের বস্তি অঞ্চলে। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও মানুষজনের সহযোগিতায় শুটিং নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছবির রাজনৈতিক রঙ নিয়ে প্রশ্নে সৌরভ নির্দ্বিধায় বলেন, “হ্যাঁ, এটা রাজনৈতিক ছবি। যদি কোনও শিশু ফাঁকা পড়ে থাকা বাড়িতে দাঁড়িয়ে ভাবে, ‘আমি হাসপাতাল বানাব’— সেটাই যদি বাম মনোভাব হয়, তা হলে আমি গর্ব করি, আমি সেই সঠিক রাজনীতির সঙ্গেই আছি।”
ছবির বিদেশযাত্রা নিয়ে সৌরভ বলেন, “বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল না। রানাদা (প্রযোজক রানা সরকার) গল্প শুনেই বলেছিলেন, এই ছবি বানাতেই হবে। সেখান থেকেই শুরু। ছবিটি যেখানে যেখানে দেখানো হয়েছে, সেখানকার দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছেন— সেটা চোখে জল এনে দিয়েছে।”
নিজের জীবন নিয়েও বলেন, “আমার ছেলেবেলা খুব কষ্টে কেটেছে তা নয়, কিন্তু পাড়ার আড্ডা, শোরগোল, প্রতিবেশীদের প্রভাব আমার জীবনের বড় অংশ। সেই বাস্তবটাই ছবির শিশু চরিত্রদের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”
দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত