সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল থেকে ইউসুফ পাঠানকে সরাল তৃণমূল, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল থেকে ইউসুফ পাঠানকে সরাল তৃণমূল! ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর মোদী সরকারের সর্বদলীয় কূটনৈতিক মিশন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হল রবিবার। এই প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে…

May 19, 2025
1 min read

সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল থেকে ইউসুফ পাঠানকে সরাল তৃণমূল!

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর মোদী সরকারের সর্বদলীয় কূটনৈতিক মিশন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হল রবিবার। এই প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান তুলে ধরা। কিন্তু শিবসেনা (উদ্ধব) ও তৃণমূল স্পষ্টভাবেই অভিযোগ করেছে—এই কূটনৈতিক সফরের মোড়কে আসলে বিজেপি নিজের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টায় রয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের ঘোষিত প্রতিনিধিদল থেকে হঠাৎ করেই নিজের মনোনীত সদস্য ইউসুফ পাঠানকে সরিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক এবং সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর দফতর যোগাযোগ করে পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য ও সফরসূচি চেয়ে নিয়েছিল। কিন্তু রবিবার তৃণমূল জানিয়ে দেয়, তারা এই সফরে কাউকে পাঠাবে না।

দলীয় রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “আমরা দেশ এবং জাতীয় স্বার্থের পক্ষে সবসময়। কিন্তু আন্তর্জাতিক কূটনীতির দায়িত্ব সরকারের। সেই কাজ সরকারই করুক।” তিনি আরও জানান, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে কোনও সাংসদকে একতরফাভাবে যোগাযোগ করে মনোনয়ন দেওয়া যায় না। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা বা লিখিত অনুমতি ছাড়াই এমন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

শুধু তৃণমূলই নয়, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতি না নিয়ে প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীকে এই প্রতিনিধিদলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নেতা সঞ্জয় রাউত। তাঁর কটাক্ষ, “এই বারাত (বরযাত্রা) পাঠানোর কোনও প্রয়োজন ছিল না। প্রধানমন্ত্রী দুর্বলতা ঢাকতে এত তাড়াহুড়ো করছেন।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি সবকিছু নিয়েই রাজনীতি করতে চায়। তাই এই বারাত বয়কট করা উচিত ইন্ডিয়া জোটের।”

প্রিয়াঙ্কার মনোনয়নে ক্ষুব্ধ উদ্ধব ঠাকরে নিজে। এমনকি, সঞ্জয় রাউতের একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও, প্রিয়াঙ্কাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি—এই তথ্য থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ স্পষ্ট।

এদিকে কংগ্রেসও এই উদ্যোগে বিজেপির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের একাংশের মতে, মোদীর কার্যালয় শশী তারুরকে প্রতিনিধিদলের নেতা করে রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে পাশ কাটিয়ে গোপন কৌশল নিয়েছে। তারুর, যিনি সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধাচরণ করে বিতর্কে জড়িয়েছেন, তাঁকে বেছে নেওয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছে কংগ্রেস।

এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি নেতা গৌরব বল্লভের মন্তব্য ঘি ঢেলে দিয়েছে আগুনে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস সত্যিকারের প্রতিভাকে বরাবর দমিয়ে রাখে। প্রধানমন্ত্রী যদি তারুরের যোগ্যতা দেখে তাঁকে বাছেন, কংগ্রেসের তাতে সমস্যা কোথায়?”

এদিকে কংগ্রেসও সুযোগ ছাড়েনি। উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “কৃষকদের নিয়ে ধনখড়ের আবেগ মোদী সরকার যেভাবে উপেক্ষা করছে, তা দুর্ভাগ্যজনক।” ডিসেম্বরে ধনখড় কৃষিমন্ত্রীকে বলেছিলেন, কৃষকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে—সেই ঘটনাই তুলে কটাক্ষ করল কংগ্রেস।

সব মিলিয়ে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ছায়া ঘিরে যে সর্বদলীয় উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তা এখন স্পষ্টতই এক বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।

কন্যাকে বিশেষ কারণে কান-এ নিয়ে যান ঐশ্বর্যা! বিদেশি উৎসবে আরাধ্যার প্রিয় মুহূর্ত কী?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *