জ্বিন, লাদেন, আর পরমাণু: এক বিতর্কিত বৈজ্ঞানিকের ছেলে এখন পাক সেনার মুখপাত্র

জ্বিন, লাদেন, আর পরমাণু! আজ তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্যতম মুখপাত্র, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমদ শরিফ চৌধরি। কিন্তু যাঁর পরিচয় আজ রাষ্ট্রীয় পরিসরে, তাঁর অতীত ঘিরে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন ও বিতর্ক। কারণ…

May 12, 2025
1 min read

জ্বিন, লাদেন, আর পরমাণু!

আজ তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্যতম মুখপাত্র, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমদ শরিফ চৌধরি। কিন্তু যাঁর পরিচয় আজ রাষ্ট্রীয় পরিসরে, তাঁর অতীত ঘিরে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন ও বিতর্ক। কারণ তিনি কেবল একজন উচ্চপদস্থ সেনা অফিসারই নন, তিনি সেই বিজ্ঞানী সুলতান বশিরউদ্দিন মাহমুদের পুত্র— যাঁর নাম জড়িয়ে আছে ওসামা বিন লাদেন, জঙ্গি সংগঠন এবং এমনকি ‘জ্বিন’-এর সঙ্গেও!

সুলতান বশিরউদ্দিন মাহমুদের জন্ম হয়েছিল অবিভক্ত ভারতের অমৃতসরে। পড়াশোনা করেছিলেন ব্রিটেনে। কর্মজীবনে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে ওঠেন তিনি। পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ থেকে শুরু করে ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়ামভিত্তিক অস্ত্রের পরিকাঠামো গঠনে তাঁর ছিল বিশাল অবদান।

তবে মাহমুদের জীবনবৃত্ত শুধুই বিজ্ঞানচর্চায় সীমাবদ্ধ ছিল না। অবসর নেওয়ার পর ২০০০ সালের গোড়ায় তিনি গড়ে তোলেন ‘উম্মা তামির-ই-নৌ’ নামে একটি সংগঠন, যার আসল উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করা হতো— তালিবান-শাসিত আফগানিস্তানে স্কুল গড়ে তোলা। কিন্তু আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পরে জানায়, এই সংস্থাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে মূলত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছিলেন মাহমুদ।

এই পর্যায়ে মাহমুদের নাম জড়িয়ে পড়ে আরও গুরুতর অভিযোগে। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং আমেরিকান গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০১ সালের অগস্টে তিনি ওসামা বিন লাদেন এবং আল কায়দা নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও তাঁদের মধ্যে সরাসরি পরমাণু প্রযুক্তি আদানপ্রদানের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তথাপি এই বৈঠক মার্কিন প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে।

এমনকি দাবি করা হয়েছিল, মাহমুদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান ও জ্ঞান ছিল এবং তিনি ইসলামি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। এই কারণেই তাঁকে পরে কালো তালিকাভুক্ত করে আমেরিকার ট্রেজারি দফতর।

মজার বিষয় হল, মাহমুদ ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি ‘জ্বিন’-এর অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন এবং এমনকি দাবি করেছিলেন যে পৃথিবীর জ্বালানি সমস্যার সমাধান সম্ভব জ্বিনদের শক্তি ব্যবহার করে! তাঁর লেখা বই যেমন Mechanics of the Doomsday বা Life and Death— এসবেই ফুটে ওঠে তাঁর চমকপ্রদ যুক্তি ও ধর্মীয়-বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি।

এই বিতর্কিত বিজ্ঞানীরই পুত্র আজ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রদের একজন। আহমদ শরিফ চৌধরি ২০২২ সালে আইএসপিআর-এর ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পান। ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আহমদ এর আগেও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিভাগে কাজ করেছেন।

তাঁর বাবা হয়তো একসময় পরমাণু প্রযুক্তিকে ইসলামী বিশ্বের যৌথ সম্পদ মনে করতেন, কিন্তু আজ সেই বিজ্ঞানীর পুত্রই সামরিক শৃঙ্খলা আর আধুনিক রাষ্ট্রনীতির মুখ। অতীতের ছায়া কি বর্তমানকে স্পর্শ করে? সে উত্তর সময়ই দেবে। তবে ইতিহাস আর উত্তরাধিকার কখনও একে অপরকে পুরোপুরি ছাড়ে না, এটুকু নিশ্চিত।

সাইবার অপরাধ সচেতনতা: ছাত্রদের জন্য ‘সহজ পাঠ’ প্রশিক্ষণ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *