শিল্পে ছাড় বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ!
রাজ্য সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তে ছোট-মাঝারি শিল্প মহলে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সম্প্রতি রাজ্য সরকার শিল্পে উৎসাহমূলক সব রকম ছাড় ও সুবিধা (ইনসেনটিভ) বাতিল করার ঘোষণা করে। আর এতেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় সরব হয়েছে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা—ফসমি। সংস্থার সভাপতি বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
ফসমির মতে, রাজ্যের অনেক ছোট সংস্থা এমনিতেই আর্থিক চাপে আছে। তারা এত দিন শিল্পে ছাড় ও ভর্তুকির ওপর নির্ভর করেই কোনও রকমে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছিল। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই সহায়তাগুলি তাদের অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই সব সুবিধা হঠাৎ তুলে নেওয়ায় একাধিক সংস্থার টিকে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
চিঠিতে বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন, “আমাদের দাবি, সরকার যেন শিল্প নীতিতে এমন বড় পরিবর্তন আনার আগে শিল্পমহলের সঙ্গে আলোচনা করে। বিশেষ করে যারা সরাসরি এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হচ্ছে—তাদের মতামত জানা জরুরি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “হঠাৎ করে সব রকম ছাড় বন্ধ করে দিলে শিল্পে আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগবে। এত দিন ধরে যে উৎসাহ ও আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে রাজ্যের কোনও সংস্থা অতীতের বকেয়া ছাড় বা ভর্তুকিও দাবি করতে পারবে না। আইনি ভাবে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে লগ্নিকারীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। কারণ, অন্যান্য রাজ্য যেখানে বিনিয়োগ বাড়াতে নানা প্রণোদনার ব্যবস্থা করছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই পদক্ষেপ ঠিক উল্টো সুরে বাজছে।
বিশ্বনাথবাবু মনে করছেন, “সরকার চাইলে নতুন নিয়ম চালু করতে পারে বটে, কিন্তু সেটি ধাপে ধাপে করা উচিত ছিল। হঠাৎ করে সব রকম সহায়তা তুলে নেওয়া কোনও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নয়। এটা যেমন শিল্পপতিরা মেনে নিতে পারছেন না, তেমনই রাজ্যের শিল্পায়নের গতিও ব্যাহত হবে।” তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়বে কর্মসংস্থানে। বহু সংস্থা হয় বন্ধ হয়ে যাবে, নয়তো কর্মী ছাঁটাই করবে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ফসমির আর্জি—নতুন করে ভাবুক রাজ্য। রাজ্যের স্বার্থেই ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নিক সরকার। কারণ, শিল্পে ভরসা থাকলেই রাজ্যে বিনিয়োগ আসবে, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, এগোবে রাজ্যের অর্থনীতি।
শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী এই চিঠির কী উত্তর দেন এবং আদৌ কোনও সিদ্ধান্ত বদল হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ছোট শিল্পের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট—তারা আবারও চায় সেই সহায়তার হাত, যা এত দিন ধরে তাদের পথচলার শক্তি জুগিয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মিথ্যাচারের তৎপরতা: ভুয়ো খবরকে হাতিয়ার করছে পাকিস্তান