নীল সমুদ্রে শিউলি না ড্যাফোডিল? মেট গালার নীল গালিচায় লুকিয়ে ভারতের গর্ব

নীল সমুদ্রে শিউলি না ড্যাফোডিল? 'রেড কার্পেট'—শব্দটা শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি আর লাল গালিচা বেয়ে তাদের স্টাইলের ঝলক। কিন্তু এবারের মেট গালা সেই প্রচলিত ভাবনাকে ছাপিয়ে গেল।…

May 6, 2025
1 min read

নীল সমুদ্রে শিউলি না ড্যাফোডিল?

‘রেড কার্পেট’—শব্দটা শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি আর লাল গালিচা বেয়ে তাদের স্টাইলের ঝলক। কিন্তু এবারের মেট গালা সেই প্রচলিত ভাবনাকে ছাপিয়ে গেল। রেড নয়, এবার তারকারা হাঁটলেন এক অসাধারণ নীল গালিচার ওপর দিয়ে—যেটা দেখতে যেন একেবারে সমুদ্রের জলের মতো! কোথাও গাঢ়, কোথাও হালকা নীল; তার উপর ঢেউয়ের রেখা। যেন মাঝসমুদ্রের স্তব্ধ অথচ রহস্যময় জলরাশি। আর সেই জলে যেন ছড়িয়ে আছে অসংখ্য সাদা পাপড়ির কমলা বৃন্তের ফুল—দেখলে মনে হতেই পারে, এ যেন শিউলি ফুল!

কিন্তু বাস্তবে তা নয়। মেট গালার এই অনন্য গালিচায় যে ফুলগুলি ছড়ানো, তা আসলে ড্যাফোডিল। ইউরোপের প্রাকৃতিক ফুল হলেও, এই গালিচার শিকড় রয়েছে বহু মাইল দূরের ভারতের কেরলে।

কারণ এই অনন্য গালিচাটি তৈরি করেছে ভারতেরই কেরলের আলাপ্পির সংস্থা ‘নেইট’। তারা ২০২৩ সাল থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো মেট গালার জন্য কার্পেট সরবরাহ করছে। এই সাফল্যের কথা জানিয়ে সংস্থাটি তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গর্বের সঙ্গে লিখেছে—“বিশেষ কিছু নয়, শুধু আমাদের তৈরি করা কার্পেটটাই ব্যবহার হয়েছে। দেশের জন্য এটা একটা গর্বের মুহূর্ত।”

তবে নেইট সংস্থার দাবি, মেট গালায় যে গালিচা দেখা গেছে, তার নকশা তাঁরা করেননি। তাদের ভাষায়, “আমরা মেট গালাকে সাদা ক্যানভাসের মতো একটি কার্পেট দিয়েছিলাম। তারপর তাদের শিল্পীরা তাতে হাতে এঁকে ফুলের সেই অসাধারণ ডিজাইন তৈরি করেছেন।”

এই গালিচা তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব মঞ্চে ভারতের কারুশিল্প এবং হস্তশিল্প আবারও নতুন করে সম্মান পাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে নেইট-এর এই কাজ প্রশংসায় ভরে উঠেছে। কেউ লিখেছেন—“ভারতীয় হস্তশিল্পের এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেখে গর্ব হয়।” আবার কেউ বলছেন—“তোমাদের এই নিপুণ শিল্প আমাদের দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করছে।”

এবারের মেট গালায় বিশ্বের তারকারা যেমন হেঁটেছেন সেই নীল গালিচায়, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন শাহরুখ খান। তাঁর উপস্থিতি আর সেই গালিচার মায়াবী আবরণ যেন একসঙ্গে মিলেমিশে এক অনবদ্য মুহূর্ত তৈরি করেছে।

এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভারতের মাটি আর মানুষের হাতে যে শিল্প জন্ম নেয়, তা বিশ্ব দরবারেও জায়গা করে নিতে জানে। রঙ, সূক্ষ্মতা আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে ভারত আবারও প্রমাণ করল—সে শুধু অতীতের দেশ নয়, বরং ভবিষ্যতের ক্যানভাসেও তার তুলনা হয় না।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *