প্ল্যাটফর্মে পড়ে গিয়ে ‘ভুল ট্রেনে’ উঠে আহত অবস্থায় উদ্ধার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়েল ওরাওঁ!
রাতের অন্ধকার, মধ্যপ্রদেশের দামোহ স্টেশন। একদিকে ধীরগতিতে ট্রেন ছাড়ছে, অন্যদিকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে রেল নিরাপত্তারক্ষীরা—নিখোঁজ একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী! অবশেষে তিন ঘণ্টা পর পাওয়া গেল তাঁকে, তাও একেবারে অন্য ট্রেনে, আহত অবস্থায়। সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই রহস্যে মোড়া এই ঘটনাটি ঘটেছে কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী ও ওড়িশার সুন্দরগড়ের সাংসদ জুয়েল ওরাওঁ-র সঙ্গে।
শনিবার রাতে দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন স্টেশন থেকে গন্ডোয়ানা এক্সপ্রেসে জবলপুরের উদ্দেশে রওনা দেন মন্ত্রী ওরাওঁ। ট্রেনের সংরক্ষিত আসনে তাঁকে চড়তে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু রবিবার দামোহ স্টেশনে তাঁর আসন ফাঁকা দেখে শুরু হয় হুলস্থুল। নিরাপত্তারক্ষীরা, রেল আধিকারিকেরা বুঝতেই পারছিলেন না, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কোথায় গেলেন?
কীভাবে ঘটল এই রহস্য?
রেলসূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে তিনটার দিকে দামোহ স্টেশনে ট্রেন থামে। মন্ত্রীর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় তিনি কিছু খাওয়ার জন্য স্টেশনে নামেন। কিন্তু তখনই ট্রেন ছেড়ে দেয়। তড়িঘড়ি ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে পা পিছলে প্ল্যাটফর্মেই পড়ে যান তিনি। সামান্য চোট পান।
সেই মুহূর্তে ঠিক পাশেই ছিল আর একটি ট্রেন — সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেস। গন্তব্যও প্রায় কাছাকাছি। তিনি আর বেশি কিছু না ভেবেই সেই ট্রেনের একটি বগিতে উঠে পড়েন। কিন্তু মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তো জানতেন না তিনি ওই ট্রেনে আছেন! ফলে শুরু হয় বিশাল তল্লাশি অভিযান।
তিন ঘণ্টার দমবন্ধ করা অনুসন্ধান
রেলের আরপিএফ (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স) এবং অন্যান্য আধিকারিকেরা প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে ট্রেনের বগি—সব খুঁজে ফেলার চেষ্টা করেন। অবশেষে ১৬২ কিলোমিটার দূরের সিহোরা স্টেশনে সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেসের বি৩ কোচের ৫৭ নম্বর বার্থে আহত অবস্থায় পাওয়া যায় মন্ত্রীকে। দ্রুত তাঁকে জবলপুর সার্কিট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এখনও নেই মন্ত্রীর তরফে কোনও বিবৃতি
এই ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। এত বড় একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এমন ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া, এবং পরে অন্য ট্রেনে আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া—এই ঘটনা প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তো তুলছেই, সঙ্গে বাড়িয়ে দিচ্ছে চিন্তার ভাঁজ।
যদিও এখনও পর্যন্ত মন্ত্রী জুয়েল ওরাওঁ নিজে এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেননি। তবে পশ্চিম-মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হর্ষিত শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, খবর পাওয়া মাত্র রেল দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং মন্ত্রীকে যথাযথ নিরাপত্তা ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এই ঘটনা প্রমাণ করে—কোনও পরিকল্পনাই কখনও ১০০ শতাংশ নিশ্চিত নয়। আর ট্রেনযাত্রার মাঝে একটা ছোট মুহূর্তই উলটপালট করে দিতে পারে পুরো চিত্রপট।
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের