ট্রেনের শৌচালয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে ‘নিখোঁজ’ যাত্রী!
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে বন্ধ একটি ট্রেনের শৌচালয়ের দরজা। যাত্রীরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো ভেতরে কেউ নেই। বারবার ধাক্কা দিয়েও যখন কিছুই ঘটে না, তখন সন্দেহ দানা বাঁধে। আর ঠিক তখনই উঠে আসে এক ভয়ানক সত্য—ভিতরে আসলে আটকে ছিলেন একজন ‘নিখোঁজ’ যাত্রী, অসুস্থ অবস্থায়!
ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির আনন্দবিহার থেকে বিহারের সীতামঢ়ী রুটে চলা লিচ্ছবি এক্সপ্রেস-এ। ট্রেনটিতে যাত্রা করছিলেন অনিল কুমার, যিনি দিল্লির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ায়। নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েই ঘটে যায় এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা।
আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজ়িয়াবাদ স্টেশনের কাছাকাছি ট্রেন চলাকালীন অনিল যান শৌচালয়ে। তারপর থেকেই তাঁকে আর দেখা যায়নি কামরায়। প্রথমে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি সহযাত্রীরা। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও শৌচালয়ের দরজা না খোলায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
যাত্রীরা অনেক চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারেননি। শেষে কিছু যাত্রী বিষয়টি জানান রেলসুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-কে। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে যা দেখে তাতে সকলেই হতবাক—শৌচালয়ের ভিতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন অনিল!
অনিল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে, দরজা খোলার মতো শক্তি পর্যন্ত ছিল না। এমনকি কাউকে ডাকাও সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের কথায়, এখন তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন, যা স্বস্তির খবর।
এই ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। কীভাবে ১২ ঘণ্টা ধরে বন্ধ ছিল একটি শৌচালয়, আর কেউ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি? রেল কর্তৃপক্ষ কি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে আরও ত্রুটি রাখছে?
তবে অনেকেই বলছেন, যদি সহযাত্রীরা সচেতন না হতেন, আর সময়মতো আরপিএফকে না জানাতেন, তাহলে হয়তো ঘটনার পরিণাম আরও ভয়াবহ হতে পারত।
রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ট্রেনের শৌচালয়ে সুরক্ষা সংক্রান্ত ব্যবস্থা আরও কড়া করার ভাবনাও চলছে। সাধারণ যাত্রীদেরও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং যাত্রী নিরাপত্তা ও নজরদারির গুরুত্বের ওপর এক বড় বার্তা। ট্রেনে যাতায়াতের সময় আমাদের সকলেরই আরও সতর্ক ও সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি। কারণ, একেক সময় জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা যাত্রীসাথীরাই হয়ে ওঠেন আসল রক্ষাকর্তা।
পহেলগাঁও হামলা: বলিউডের তারকাদের ক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র বার্তা