“বৈষম্য নয়, সম্প্রীতির বাংলাদেশই হোক নববর্ষের অঙ্গীকার”— ইউনূসের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা

ইউনূসের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা! নতুন বছর মানেই নতুন আশার আলো। সেই আলোতেই নববর্ষের সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তা দিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বার্তায়…

April 14, 2025
1 min read

ইউনূসের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা!

নতুন বছর মানেই নতুন আশার আলো। সেই আলোতেই নববর্ষের সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তা দিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বার্তায় ছিল শান্তি, সহমর্মিতা, ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার দৃঢ় আহ্বান।

পয়লা বৈশাখকে শুধুমাত্র এক উৎসব নয়, বরং জাতিগত ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন ইউনূস। লিখেছেন, “পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের উৎসব। এই দিনটি আমাদের মিলনের, মনের মিলনের দিন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এক ছাতার নিচে এসেছি এই দিনে—নবপ্রাণে, নতুন অঙ্গীকারে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত বছরের কষ্ট, গ্লানি, অশান্তিকে পেছনে ফেলে আমরা যেন এগিয়ে যাই নতুন উদ্যমে। নববর্ষ হোক আমাদের প্রত্যয়ের দিন, যেখানে আমরা প্রতিজ্ঞা করি—এবার গড়ব একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতির বাংলাদেশ।”

গণঅভ্যুত্থানের প্রতিফলন

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, “এই জনতার আন্দোলন আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে নতুন এক সম্ভাবনার চাবিকাঠি। এখন সময় এসেছে, সে সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার। গড়ে তুলতে হবে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে সবাই থাকবে সমান মর্যাদায়—নেই বৈষম্য, নেই শোষণ, নেই ভয়।”

নববর্ষের এই নতুন শুরুতে ইউনূস দেশের মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন—একতা, ন্যায়বিচার আর মানবিকতা দিয়েই ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।

আশার বার্তা, কিন্তু অশান্ত চট্টগ্রাম

এই বার্তার পাশাপাশি, দুঃখজনকভাবে পয়লা বৈশাখের রাতে চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ঘটে গেল অশান্তির ঘটনা। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে ভাঙচুর চালায় একদল দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, হামলাকারীরা ‘আওয়ামী লীগের দালাল সাবধান’ স্লোগান দিচ্ছিল। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাতজনকে আটক করে।

বিগত মাসগুলোতে চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। যদিও সরকার এসব ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে দাবি করে আসছে, কিন্তু প্রতি উৎসবেই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রশ্ন তোলে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও সহনশীলতা নিয়ে।

সেনাপ্রধানেরও সম্প্রীতির বার্তা

দেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও ইউনূসের সুরেই শান্তির বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই শান্তির বাংলাদেশ। মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা যেন কখনও হারিয়ে না যায়। নিজস্ব মত প্রকাশ করব, তবে তা যেন হয় সম্মানের সঙ্গে।”


নতুন বছর এলেও পুরনো কিছু ক্ষত এখনও তাজা। তবুও মুহাম্মদ ইউনূসের মতো নেতৃত্বদের বার্তা মনে করিয়ে দেয়—আলো এখনও জ্বলে, যদি আমরা সবাই মিলিতভাবে সেই আলোকে এগিয়ে নিয়ে যাই। নববর্ষ হোক কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং হোক বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশ গড়ার সূচনাদিন।

অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদ, আর ইউসুফ পঠান ‘ফুরফুরে চা’-এ মশগুল! ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *