নববর্ষের উল্লাসে রক্তঝরা ঠেকাল এফবিআই, শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল ছুরি হামলার ছক

নববর্ষের উল্লাসে রক্তঝরা ঠেকাল এফবিআই! নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন আমেরিকার নানা প্রান্তে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা সামনে এনে দিল মার্কিন গোয়েন্দারা। উত্তর ক্যারোলিনায় বর্ষবিদায়ের…

January 3, 2026
1 min read

নববর্ষের উল্লাসে রক্তঝরা ঠেকাল এফবিআই!

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন আমেরিকার নানা প্রান্তে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা সামনে এনে দিল মার্কিন গোয়েন্দারা। উত্তর ক্যারোলিনায় বর্ষবিদায়ের ভিড়ে এলোপাথাড়ি ছুরি চালানোর ছক কষেছিল এক তরুণ। তবে হামলার আগেই তাকে গ্রেফতার করে বড় বিপদ এড়াতে সক্ষম হয়েছে এফবিআই।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম ক্রিস্টিয়ান স্টারডিভ্যান্ট। বয়স মাত্র ১৮ বছর। অভিযোগ, নববর্ষের রাতে উত্তর ক্যারোলিনার একটি জনপ্রিয় খাবারের দোকানে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নির্বিচারে ছুরি চালানোর পরিকল্পনা ছিল তার। যাঁকে সামনে পেত, তাকেই আঘাত করার ছক কষেছিল সে। এমনকি হামলার পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর এবং তাতে প্রাণ গেলেও তা “হাসিমুখে গ্রহণ করার” মানসিক প্রস্তুতিও নাকি ছিল তার।

কিন্তু এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ভেস্তে যায়। কারণ, অনেক দিন ধরেই ওই যুবক এফবিআইয়ের নজরদারিতে ছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, নাবালক বয়স থেকেই তার আচরণ সন্দেহজনক ছিল। উগ্র মতাদর্শে আকৃষ্ট হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তাই ২৪ ঘণ্টা তার গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল।

শুক্রবার এ বিষয়ে বিবৃতি দেন এফবিআই প্রধান কাশ পটেল। তিনি জানান, অভিযুক্ত যুবক আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত। যদিও সরাসরি আইএস-এর কোনও সক্রিয় সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি না, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সে নিজেকে একাধিক বার আইএস-এর ‘সৈনিক’ বলে পরিচয় দিয়েছিল এবং খুব শিগগিরই ‘জিহাদ’ করতে চলেছে বলেও দাবি করেছিল।

গোয়েন্দারা জানান, ছদ্মবেশে আইএস সমর্থক সেজে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সময়েই নিজের পরিকল্পনার কথা সে খুলে বলে। তার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব মানুষকে আঘাত করা। এফবিআইয়ের অনুমান, হামলাটি হলে নববর্ষের আগেই অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি হতে পারত।

গ্রেফতারের পর অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি চিরকূট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল— ‘নিউ ইয়ার্স অ্যাটাক ২০২৬’। এই লেখা থেকেই গোয়েন্দাদের ধারণা আরও দৃঢ় হয় যে, পরিকল্পনাটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট তারিখ মাথায় রেখেই ছক কষা হয়েছিল।

এফবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ঘটনায় জনসাধারণের নিরাপত্তা ছিল তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত একক হামলাকারীদের (লোন উলফ) চিহ্নিত করা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

বর্ষবিদায়ের আনন্দে যখন মানুষ নতুন বছরের স্বপ্ন বুনছে, তখন এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল— সতর্কতা আর সময়মতো পদক্ষেপই পারে বহু প্রাণ বাঁচাতে। এফবিআইয়ের তৎপরতায় সেই ভয়াবহ রাতটি শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত হয়ে ওঠেনি, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *