অক্সফোর্ডে মমতা!
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অক্সফোর্ডের আমন্ত্রণে যখন বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন, তখনই প্রশ্ন উঠছে—আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আন্দোলন কি আলোচনার কেন্দ্রে আসবে? তবে মমতা নিজেই জানিয়ে দিলেন, কোনও ভয় নেই। বরং তাঁর আত্মবিশ্বাস চরমে।
টেমস নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বললেন, “ওরা বল করলে আমি ব্যাটিং শুরু করব! ছক্কা মারব।” তাঁর কণ্ঠে ঝলক দিচ্ছিল সেই চিরচেনা অকুতোভয় মমতা।
🎤 অক্সফোর্ডের মঞ্চে মমতা
আগামী বৃহস্পতিবার মমতা যোগ দেবেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে। বিষয়—‘সামাজিক উন্নয়ন: বালিকা, শিশু এবং মহিলা ক্ষমতায়ণ’। মমতার বক্তৃতার জন্য এতটাই উৎসাহ দেখা গেছে যে, প্রবেশের জন্য নাম নথিভুক্তিকরণের সময়সীমা একদিন আগেই বন্ধ করতে হয়েছে।
কেলগ কলেজের প্রেক্ষাগৃহ কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর দর্শকাসনে থাকবেন খোদ ক্রিকেট মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
💥 আরজি করের ছায়া
যদিও এই সফরের মধ্যেও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আন্দোলনকে ঘিরে বিতর্ক জিইয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালের সেই আন্দোলন রাজ্য সরকারকে যথেষ্ট চাপে ফেলেছিল। ‘দলহীন নাগরিক আন্দোলন’ হিসেবে পরিচিত সেই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
এমনটাই শোনা যাচ্ছে, অক্সফোর্ডে এই প্রসঙ্গ উঠতে পারে। তবে মমতা তাতে ভয় পাচ্ছেন না। তাঁর কথায়, “আমি তৈরি হয়েই এসেছি। আমার কাছেও নথি আছে।”
📜 ভুয়া চিঠি বিতর্ক
এই সফর ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক রহস্যময় চিঠি। বলা হচ্ছে, আরজি করের প্রাক্তন ছাত্রদের নামে লেখা চিঠিতে মমতার আমন্ত্রণের বিরোধিতা করা হয়েছে। চিঠিতে কেন মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত নয়, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।
তবে চিঠির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমল ওঝা এবং সোনালি গুহ, যাঁরা আরজি করের প্রাক্তনীদের সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—“আমাদের সংগঠনের তরফে এমন কোনও চিঠি লেখা হয়নি।”
এ নিয়ে মমতাও জানেন। তাঁর কথায়, “কারা গোলমাল করতে চায়, আমি সব জানি।”
⚡ মমতার আত্মবিশ্বাস
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যারা চেনেন, তাঁরা জানেন—তিনি কখনও পিছু হটেন না। বরং চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করাই তাঁর স্বভাব। আর এবারের অক্সফোর্ড সফরও তার ব্যতিক্রম নয়।
সফরের আগে থেকেই তিনি অকুতোভয়। তাঁর দাবি, “আমি জানি কী বলতে হবে। কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে আমি প্রস্তুত।”
🌿 শেষ কথা
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন অক্সফোর্ডের মঞ্চে উঠবেন, তখন তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—একজন আত্মবিশ্বাসী বক্তা হিসেবেই দাঁড়াবেন। আর যদি কেউ ‘বল’ করেন, মমতা ঠিকই তাঁর মতো করে ‘ছক্কা’ হাঁকাবেন।
এই সফর কি নতুন কোনও রাজনৈতিক বার্তা বয়ে আনবে? সময়ই দেবে তার উত্তর।