ফুরফুরায় মমতার সফর!
নির্বাচনের আবহে ফুরফুরা শরিফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ন’বছর পর ফুরফুরায় গিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংককে আরও সুসংহত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। এ সফরে উপস্থিত ছিলেন এমন কিছু চেনা মুখ, যাঁরা অতীতে তৃণমূলের প্রবল বিরোধী ছিলেন। তবে এখন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েই মমতা বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতির অঙ্ক কষতে তিনিও ওস্তাদ।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?
ফুরফুরা শরিফ পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয় এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এখানকার প্রভাবশালী পিরজাদারা রাজনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রভাব কিছুটা কমেছে। নতুন প্রজন্মের পিরজাদারা, বিশেষ করে নওশাদ সিদ্দিকির মতো নেতারা উঠে এসেছেন, যাঁরা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। মমতার সফরকে অনেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজের প্রভাব ধরে রাখার কৌশল বলে মনে করছেন।
কাশেম সিদ্দিকির উপস্থিতি: বার্তা স্পষ্ট
মমতার সফরে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন কাশেম সিদ্দিকি, যিনি অতীতে তৃণমূলের কট্টর সমালোচক ছিলেন। কিন্তু ইফতারের মঞ্চে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল। পার্ক সার্কাসের ইফতারেও কাশেমের উপস্থিতি সেই বার্তাকে আরও জোরালো করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ করেছেন মমতা।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে পারছেন যে তাঁরা শুধুই ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। এই সফরকে তিনি রাজনৈতিক চমক বলেই মনে করছেন। অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ী মনে করেন, মমতার সফরের উদ্দেশ্য দ্বিগুণ— একদিকে সংখ্যালঘু নেতাদের পাশে টেনে আনা এবং অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলানো।
সংখ্যালঘু ভোট: তৃণমূলের শক্তি
২০০৯ সাল থেকেই সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের প্রধান ভিত্তি। যদিও মালদহ, মুর্শিদাবাদ, এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলায় একসময় সংখ্যালঘু ভোটাররা বাম এবং কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকেছিলেন, তবে ২০২১ এবং ২০২৪ সালের ভোটে তৃণমূল এই ভোটব্যাংককে আরও দৃঢ় করেছে। মমতার সাম্প্রতিক সফরকে সেই ভিত্তি আরও মজবুত করার প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নওশাদ সিদ্দিকি এবং আইএসএফের চ্যালেঞ্জ
নওশাদ সিদ্দিকি এবং তাঁর দল আইএসএফ ২০২১ সালে বাম-কংগ্রেস জোটের অংশ হিসেবে কিছুটা প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল। তবে আইএসএফের প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা এখনো সীমিত। মমতার সফরের মাধ্যমে স্পষ্ট যে তিনি সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে ফের বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তৃণমূলই তাঁদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
শেষ কথা
মমতার ফুরফুরা সফর নিঃসন্দেহে সংখ্যালঘু ভোটের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। তিনি দেখিয়ে দিলেন, প্রভাবশালী মুখগুলোকে পাশে নিয়ে এসে রাজনৈতিক সমীকরণ কিভাবে নিজের পক্ষে টানা যায়। তবে এই সফরের চূড়ান্ত ফলাফল ভোটবাক্সেই প্রতিফলিত হবে।