স্বরার মেয়ে রাবিয়া!
বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর সবসময়ই নিজের মতামত প্রকাশ্যে বলেন, কটাক্ষের ভয় না করেই। সমাজবাদী পার্টির নেতা ফাহাদ আহমেদকে বিয়ে করার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে, ভিন্ন ধর্মের বিবাহ নিয়ে তাঁকে বহুবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এসব সমালোচনায় কান না দিয়ে স্বরা নিজের পরিবারকে সম্প্রীতির এক সুন্দর আবহে বড় করছেন। তাঁদের কন্যাসন্তান রাবিয়া রামা আহমেদ যেন সব ধর্মের সুন্দর দিকগুলো শিখতে পারে, সেই দিকেই খেয়াল রাখছেন তিনি।
দুই ধর্মের মিশেলে সন্তানের নামকরণ
২০২৩ সালে প্রথমবার মা হন স্বরা ভাস্কর। তিনি এবং ফাহাদ তাঁদের কন্যার নাম রাখেন রাবিয়া রামা আহমেদ। এই নামের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম দুই ধর্মের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। নামকরণের বিষয়ে স্বরা বলেন,
👉 “আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের সন্তানের নাম এমন কিছু হোক যা দুই ধর্মেরই প্রতিনিধিত্ব করে। তাই ‘রাবিয়া’ এবং ‘রামা’—দুটো নামই রাখা হয়েছে।”
এই নামের মধ্য দিয়ে তাঁরা সমাজকে বার্তা দিতে চেয়েছেন যে ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সম্প্রীতিতে থাকা সম্ভব।
রাবিয়াকে কীভাবে বড় করছেন স্বরা ও ফাহাদ?
স্বরা ও ফাহাদ তাঁদের মেয়েকে সব ধর্মের আচার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাচ্ছেন। স্বরা বলেন,
👉 “আমি কোনো ধর্মকেই অস্বীকার করি না। রাবিয়ার জন্মের পর আমি ফাহাদকে বলেছিলাম—‘হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ—সব ধর্মের আচারই পালন করব।’ আমরা তাই করেছি। এমনকি আমি মজা করে বলেছিলাম—‘খ্রিস্টানদের কোনো রীতি বাদ পড়ে গেল না তো?’”
এ থেকেই বোঝা যায়, তিনি চান রাবিয়া যেন সব ধর্মের ইতিবাচক দিকগুলো জানতে পারে, সেগুলোর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
সন্তানের জন্য সকলের আশীর্বাদ কামনা
স্বরা ও ফাহাদ চান, তাঁদের মেয়ে যেন সকলের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে বড় হয়। তাই তিনি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের গণ্ডিতে আটকে না থেকে সর্বজনীন আচার-বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে রাবিয়ার জন্য সেরা শিক্ষাগুলো বেছে নিতে চান।
ফাহাদ আহমেদ বলেন—
👉 “স্বরা চায়, রাবিয়া যেন সব সংস্কৃতির ইতিবাচক দিকগুলি গ্রহণ করতে পারে। তাই ও অসুস্থ হলে, স্বরা আমাকে প্রার্থনা করতে বলে। ও বিশ্বাস করে, প্রার্থনা থেকে একধরনের শক্তি পাওয়া যায়।”
ভিন্ন ধর্মের বিয়ে ও সমালোচনার মুখে স্বরা
২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, সমাজবাদী পার্টির নেতা ফাহাদ আহমেদকে বিয়ে করেন স্বরা। তাঁদের প্রেমের শুরু রাজনীতির ময়দান থেকেই। কিন্তু ভিন্ন ধর্মের বিয়ে করায় সমাজের একাংশ তাঁদের কটাক্ষ করেছে। তবে স্বরা বরাবরই বলে এসেছেন—
👉 “ভালোবাসা ধর্ম দেখে হয় না, মন দেখে হয়। আমি ও ফাহাদ একে অপরকে ভালোবাসি, সেটাই যথেষ্ট।”
তিনি কখনও সমালোচনায় মাথা ঘামাননি, বরং নিজের মতো করেই জীবন ও পরিবার গড়ে তুলেছেন।
শেষ কথা
স্বরা ভাস্কর ও ফাহাদ আহমেদ তাঁদের কন্যা রাবিয়াকে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে বড় করছেন, যেখানে ধর্ম কোনো বিভাজন সৃষ্টি করে না। বরং, প্রতিটি ধর্মের ভালো দিকগুলো গ্রহণ করে সে বড় হবে। তাঁদের এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু তাঁদের সন্তানই নয়, সমাজের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ধর্ম নয়, ভালোবাসাই শেষ কথা—সেই বিশ্বাসেই জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্বরা ও ফাহাদ।