নিরাপত্তার বলয়ে থেকেও খুন!
শনিবার গভীর রাতে পাকিস্তানের ঝিলম এলাকায় ঘটে গেল এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। খুন হল লশকর-ই-তৈবার কুখ্যাত নেতা আবু কাতাল। চরম নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আততায়ীরা তাকে ২০ রাউন্ড গুলি চালিয়ে হত্যা করল? কারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে? পাকিস্তান জুড়ে এখন এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
নিরাপত্তার বলয় ভেদ করেই আততায়ীদের হামলা!
সূত্রের খবর, শনিবার রাতে নিজের দেহরক্ষীদের নিয়ে ঝিলম এলাকায় গিয়েছিলেন কাতাল। সঙ্গে ছিলেন লশকর জঙ্গিদের একটি দল। শুধু তাই নয়, সাধারণ পোশাকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকর্মীও। স্বাভাবিকভাবেই এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থেকে কাতালের খুন হওয়া অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কেউ কি আগেই তার গতিবিধি সম্পর্কে হামলাকারীদের তথ্য দিয়েছিল? এটি কি শুধুই প্রতিপক্ষের কাজ, নাকি পাকিস্তানেরই কোনও গোপন সংগঠন এতে জড়িত? স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলেই মনে করছেন।
গুপ্তচর সংস্থার অন্তর্দ্বন্দ্ব, নাকি লশকরের আভ্যন্তরীণ লড়াই?
কাতালের হত্যার পর অনেকেই মনে করছেন, এটি কোনও সাধারণ আক্রমণ নয়। কারণ, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ৮ মার্চ পাকিস্তানে খুন হন আইএসআই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মুফতি শাহ মীর। তাঁর হত্যাকাণ্ড ঘিরেও অনেক জল্পনা ছিল। অনেকে সন্দেহ করেছিলেন, আইএসআই-এর সঙ্গেই তাঁর টানাপোড়েন চলছিল, এবং সেই দ্বন্দ্বই হয়তো তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু মীর নন, তাঁর রাজনৈতিক দল জামাইত উলেমা-এ-ইসলাম (জেইউআই)-এর আরও দুই সদস্যকেও গত সপ্তাহে ঠিক একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছিল। বাইকে করে আততায়ীরা এসে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। কাতালের ক্ষেত্রেও হামলার ধরন ছিল একই রকম। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না।
হত্যার নেপথ্যে কারা? সন্দেহের তালিকায় কারা আছে?
কাতালের খুনের পর অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর পিছনে থাকতে পারে—
- প্রতিদ্বন্দ্বী জঙ্গিগোষ্ঠী: লশকরের ভেতরেও ক্ষমতার লড়াই রয়েছে। কাতালের মতো নেতাকে সরিয়ে দিয়ে অন্য কেউ সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছে কি না, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ।
- পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা গুপ্তচর সংস্থা (আইএসআই): পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো প্রাথমিকভাবে সেনার আশ্রয়ে থাকলেও, যখনই তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তাদের সরিয়ে দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। কাতালের ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু ঘটেছে?
- ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা: কাতাল জম্মু-কাশ্মীরে হামলার দায়িত্বে ছিল এবং ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ফলে অনেকে মনে করছেন, এটি ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে।
রহস্য আরও গভীর, উত্তর খুঁজছে পাকিস্তান
এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এত নিরাপত্তার মধ্যেও যদি লশকরের অন্যতম প্রধান নেতা খুন হয়ে যেতে পারেন, তাহলে অন্য নেতাদের অবস্থাও অনিশ্চিত।
পাকিস্তানের করাচি থেকে রাওয়ালপিন্ডি পর্যন্ত এখন একটাই প্রশ্ন—এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কারা আছে? এটি কি শুধুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর লড়াই, নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আরও গভীর ষড়যন্ত্র?