পুরসভায় স্থায়ী নিয়োগে কড়া পদক্ষেপ: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক হল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক হল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন! পশ্চিমবঙ্গে পুরসভা ও পুরনিগমগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে রাজ্য সরকার বড় সিদ্ধান্ত নিল। এতদিন ধরে পুরসভাগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে…

March 16, 2025
1 min read

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক হল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন!

পশ্চিমবঙ্গে পুরসভা ও পুরনিগমগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে রাজ্য সরকার বড় সিদ্ধান্ত নিল। এতদিন ধরে পুরসভাগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছিল। রাজনৈতিক সুপারিশ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়মিতভাবে নিয়োগ হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। এমনকি, সিবিআই ও ইডির তদন্তেও একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মেলে। ফলে নিয়োগ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে রাজ্য সরকার এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

নবান্নের সাম্প্রতিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সমস্ত পুরসভা, পুরনিগম, উন্নয়ন পর্ষদ এবং শিল্প উন্নয়ন পর্ষদে স্থায়ী নিয়োগ বাধ্যতামূলকভাবে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সরাসরি নিয়োগ করার সুযোগ থাকবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত

গত কয়েক বছরে পুরসভাগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। বিশেষ করে, অয়ন শীলের এজেন্সির মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনা, তাঁর বাড়ি থেকে ওএমআর শিট উদ্ধারের মতো ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ব্যারাকপুর, কামারহাটি, টিটাগর, ভাটপাড়া-সহ বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তদন্তে উঠে আসে স্থানীয় নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ করার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে সরকার বাধ্য হয় নতুন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে।

কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের নতুন ব্যবস্থা

২০১৮-১৯ সালে গঠিত ‘পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন অ্যাক্ট’-এর আওতায় কমিশনের কাজই হল স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • সকল স্থায়ী নিয়োগ কমিশনের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে করা হবে।
  • এ, বি, ও সি ক্যাটাগরির পদে নিয়োগ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হবে।
  • চুক্তিভিত্তিক নিয়োগেও পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং অর্থ দফতরের অনুমোদন লাগবে।
  • কোনও পুরসভা বা উন্নয়ন পর্ষদ চাইলে কমিশনের পরামর্শ নিতে পারবে, তবে সরাসরি নিয়োগ করতে পারবে না।

আইনি বৈধতা ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া

সরকারের এই সিদ্ধান্তের আগে কলকাতা হাইকোর্টও কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের পক্ষে রায় দিয়েছে। বাম আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালত জানিয়ে দেয় যে, কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ বাধ্যতামূলক। ফলে রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকাটি আইনি বৈধতাও পেয়ে গিয়েছে।

সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ কমবে বলে মনে করছেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিকরা। যেহেতু কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী, তাই তিনিও কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের পক্ষেই ছিলেন। ফলে, নতুন বিজ্ঞপ্তি জারির পর দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের সম্ভাবনা

সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ কমবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে পুরসভা ও উন্নয়ন পর্ষদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ নিয়োগ বন্ধ হবে এবং জনগণের আস্থাও বাড়বে।

এক প্রশাসনিক আধিকারিকের মতে, “সরকার চায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রকম দুর্নীতি না থাকুক। স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বচ্ছতা বজায় থাকে না। তাই বাধ্যতামূলকভাবে কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

এই উদ্যোগের ফলে শহরের উন্নয়ন সংস্থাগুলিতে শৃঙ্খলা আসবে এবং সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সঠিক নিয়োগ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যান্ডেল চিজ়: বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের স্বাদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *