পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল !
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বিপর্যয়ের পর বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। টানা ব্যর্থতার দায়ে এবার টি-টোয়েন্টি দল থেকেই বাদ পড়লেন পাকিস্তানের দুই তারকা ক্রিকেটার—বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দীর্ঘদিন ধরে এই দুজন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের ভরসা হয়ে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স নির্বাচকদের কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
নতুন শুরুর লক্ষ্যে পাকিস্তান
আগামী ১৬ মার্চ থেকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শুরু হচ্ছে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। পাকিস্তান চাইছে এই সফরকে নতুনভাবে শুরুর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে। তাই দল থেকে বাদ পড়েছেন শুধু বাবর ও রিজওয়ানই নন, তাদের সঙ্গে বাদ পড়েছেন পেসার মোহাম্মদ হাসনাইন ও ব্যাটার তায়াব তাহিরও। নির্বাচকদের মতে, সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক সময় বাবর ও রিজওয়ান পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারের মেরুদণ্ড ছিলেন। বাবর ছিলেন দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার এবং টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের অন্যতম সফল অধিনায়ক। অন্যদিকে, রিজওয়ান শুধু উইকেটরক্ষক নয়, একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারও ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তারা ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে সমালোচিত হচ্ছিলেন। পাকিস্তানের মিডল-অর্ডার ইতিমধ্যেই চাপে ছিল, তার ওপর বাবর-রিজওয়ান দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় পুরো ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ছিল।
নতুন অধিনায়ক, নতুন দল
নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফর্মে থাকা ব্যাটার সালমান আঘাকে। তার সহকারী হিসেবে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শাদাব খান। এছাড়া স্কোয়াডে বেশ কিছু নতুন মুখের সংযোজন করা হয়েছে। তরুণ ক্রিকেটার হাসান নওয়াজ, আবদুল সামাদ, ওমর ইউসুফ এবং ইরফান খানদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে রাখা হয়েছে উসমান খানকে।
বোলিং বিভাগেও এসেছে নতুনত্ব। দলে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ শাহিন আফ্রিদি ও হ্যারিস রউফকে, কিন্তু তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে তরুণ পেসার আব্বাস আফ্রিদি ও সুফিয়ান মুকিমকে। স্পিন বিভাগে ভরসা রাখা হয়েছে আরবার আহমেদের ওপর। আরও নতুন সংযোজন হলেন জোরে বোলার মোহাম্মদ আলি, যিনি এখনো পাকিস্তানের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেট খেলেননি।
নামের চেয়ে ফর্মকেই গুরুত্ব
পাকিস্তান নির্বাচকেরা এবার নামের চেয়ে পারফরম্যান্সকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো দলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করা এবং গত কয়েক বছরে যে ধীরগতি ব্যাটিংয়ের কারণে দল পিছিয়ে পড়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠা। নির্বাচকদের মতে, “আমরা এমন দল চাই যারা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত রান তুলতে পারবে এবং আগ্রাসী ক্রিকেট খেলবে।”
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নতুন পরীক্ষা
নিউজিল্যান্ড সফর পাকিস্তানের জন্য সহজ হবে না। সেখানে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছাড়াও তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে তারা। বাবর-রিজওয়ান ছাড়া কেমন করে দল সামঞ্জস্য বজায় রাখে এবং তরুণ ক্রিকেটাররা কীভাবে নিজেদের প্রমাণ করে, সেটাই দেখার বিষয়।
পাকিস্তান দল এখন নতুন যুগের সন্ধিক্ষণে। এই পরিবর্তন কি পাকিস্তানের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, নাকি অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত উল্টো চাপে ফেলবে দলকে? তা সময়ই বলে দেবে।