আবিরে সিঁদুরের রঙ!
দোল উৎসব এলেই কানে ভাসতে থাকে সেই চিরপরিচিত গান—“খেলব হোলি, রং দেব না, তাই কখনও হয়?” বাংলা সিনেমায় দোল মানেই প্রেম, আবিরের রঙে মিশে থাকা ভালোবাসার অনুভূতি। কতবার যে সিনেমার নায়িকা সাদা বসনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, আর নায়ক তাঁর গালে, কপালে কিংবা সিঁথিতে লাল আবির মেখে দিয়েছেন! কিন্তু বাস্তবেও কি এমনটা হয়? সিনেমার মতো করে কখনও দোল খেলেছেন টলিউডের অভিনেতা-পরিচালকরা? আনন্দবাজার ডিজিটাল এই প্রশ্ন রেখেছিল পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এবং বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের কাছে।
রাজ চক্রবর্তী: বাস্তবে হয়নি সিনেমার মতো দোল খেলা
‘পরিণীতা’ ছবির বিখ্যাত দৃশ্যটি নিশ্চয়ই মনে আছে? যেখানে নায়ক বাবাইদা-র হাত থেকে সিঁদুর পরার শখ মেটাতে মেহুল আবিরে সিঁদুর মিশিয়ে সিঁথি রাঙিয়েছিল! কিন্তু পরিচালক রাজ চক্রবর্তী কি বাস্তবেও এমন দোল খেলেছেন?
রাজের সোজাসাপ্টা উত্তর—“আমি বরাবরই রঙে ভয় পাই। তাই বিয়ের আগে কখনও দোল খেলিনি। বড়দের পায়ে আবির দিয়েছি, কিন্তু তুমুল দোল খেলার সুযোগ হয়নি।”
তাহলে পর্দায় এমন রোমান্টিক দৃশ্য এলো কীভাবে? রাজ বলেন, “এই বিশেষ দৃশ্যের ভাবনা আমার নয়, এটি গল্প ও চিত্রনাট্যকারের মস্তিষ্কপ্রসূত। বিষয়টি আমাকে খুব ছুঁয়ে গিয়েছিল, তাই ছবিতে রেখেছিলাম। পরে দেখলাম, দর্শকরাও দারুণ পছন্দ করেছে।”
তবে বাস্তবে এমন কৌশল ব্যবহার করতে হয়নি রাজকে। তাঁর কথায়, “আমি যাকে ভালোবেসেছি, তাকে সত্যিকারের সিঁদুর পরিয়ে, সাতপাক ঘুরে ঘরে এনেছি। আবিরে সিঁদুর মেশানোর প্রয়োজন হয়নি।”
রুদ্রনীল ঘোষ: দোলের দিন প্রেমিক হতে চেয়েছি, কিন্তু…
টলিপাড়ায় শোনা যায়, এক সময় নাকি দোলের দিনে রুদ্রনীল ঘোষ ছিলেন ‘রংবাজ’। তবে তিনি কি সত্যিই সিনেমার মতো করে দোল খেলেছেন?
রুদ্রনীলের স্মৃতিচারণ, “ছাপোষা পরিবারের ছেলে। আমাদের জীবনে একবারই বসন্ত আসত—দোলের দিনে! বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে পাড়ার মেয়েদের বাড়িতে ঢুকে পড়তাম। উদ্দেশ্য ছিল, পছন্দের মেয়েটির গালে একটু রং লাগানো, একটু ছোঁয়া। ছুতো ছিল বড়দের পায়ে আবির দেওয়া, কিন্তু লক্ষ্য ছিল অন্য।”
কিন্তু বাস্তবে কি তা সফল হয়েছে? হাসতে হাসতে রুদ্রনীল বলেন, “অনেক সময়েই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। কখনও মেয়েটির বাবা-কাকারা চোখে চোখে রেখেছে, কখনও আমি এতটাই রঙে মাখামাখি হয়ে গিয়েছি যে, মেয়েটি চিনতেই পারেনি! আবিরে সিঁদুর মেশানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সেটা কখনও বাস্তবায়িত হয়নি।”
বিক্রম চট্টোপাধ্যায়: সিনেমার মতো দোল বাস্তবে হয় না
বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ছোটবেলা থেকেই দোলের হুল্লোড়ে মেতে উঠতেন। তিনি জানান, “আমি যাদবপুরের সুলেখা অঞ্চলে বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, সকলে মিলে হইহই করে রং খেলছে। আমিও সেই উচ্ছ্বাসে যোগ দিতাম।”
তবে প্রেমের দোল কেমন ছিল? বিক্রম বলেন, “ছোটবেলায় লক্ষ্য ছিল, উল্টো দিকের মানুষটিকে ভূত বানানো! প্রেমিকাকেও সেটাই করেছি। তাই আবিরে সিঁদুর মেশানোর ভাবনা কখনও মাথায় আসেনি।”
সিনেমার দোল আর বাস্তবের দোল এক নয়, সেটাই স্পষ্ট করেন বিক্রম। তাঁর যুক্তি, “কিছু জিনিস পর্দাতেই মানায়। বাস্তবে সেই মুহূর্ত তৈরি করা যায় না। অনেক ছবিতে রক্ত দিয়ে দোল খেলানোর দৃশ্য দেখানো হয়, কিন্তু বাস্তবে কি কেউ সেটা করে?”
বাস্তব আর সিনেমার দোল এক নয়!
দোল মানেই রঙের খেলা, কিন্তু সিনেমার মতো করে প্রেমের প্রকাশ কি সত্যিই হয়? পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ ও বিক্রম চট্টোপাধ্যায়—তাঁদের কথায় বোঝা গেল, বাস্তবের দোল আর সিনেমার দোল এক নয়। কেউ সত্যিকারের ভালোবাসাকে সিঁদুরে রূপ দিয়েছেন, কেউবা দোলের দিনে প্রেমিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন, আবার কেউ শুধুই আনন্দের জন্য রং খেলেছেন। তবে একথা ঠিক, রঙের উৎসবের উচ্ছ্বাস সবসময়ই হৃদয়ে থাকে, হোক তা সিনেমায় কিংবা বাস্তবে!
২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করলেন রোহিত, ফিটনেসে নজর দিচ্ছেন অভিষেক নায়ারের সাহায্যে