বাংলাদেশ ক্রিকেটে অস্থিরতা!
বাংলাদেশ ক্রিকেটে বর্তমানে চলছে অস্থিরতার এক নতুন অধ্যায়। অধিনায়কত্ব নিয়ে একদিকে নাজমুল হোসেন শান্ত শর্ত দিয়েছেন, অন্যদিকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদুল্লা।
নেতৃত্বে থাকার শর্ত দিলেন শান্ত
কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্যর্থতার পর তিনি মত পরিবর্তন করেছেন। তবে এবার তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্ণ স্বাধীনতা না পেলে নেতৃত্বে থাকবেন না।
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর শান্তকে পরিস্থিতির চাপে অধিনায়ক করা হয়েছিল। শাকিব আল হাসান চোখের সমস্যার কারণে সাময়িক বিরতি নেওয়ার পর, তাকে অস্থায়ীভাবে অধিনায়ক করা হয়। পরে বিসিবি স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে শান্তকে দায়িত্ব দেয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নেতৃত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। নতুন বোর্ড সভাপতি ফারুখ আহমেদ তাকে বোঝান এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত দায়িত্ব চালিয়ে যেতে রাজি করান।
এক সাক্ষাৎকারে শান্ত বলেন, “বোর্ড সভাপতির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমার সমস্যার কথা বলেছি, উনিও তার মত দিয়েছেন। বোর্ড সভাপতি বেশ ইতিবাচক ছিলেন এবং আমাকে বোঝান। নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে রাজি করেন।”
তবে শান্তর দাবি, অধিনায়ক হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা চাই। এই শর্তেই নেতৃত্বে থাকতে চান তিনি। ফারুখ আহমেদও শান্তর বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছেন। শান্ত বলেন, “পুরোটা না হলেও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আমার চাওয়া বোর্ড মেনে নিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে আমার জন্য এটা ইতিবাচক। আশা করব, ভবিষ্যতেও এই স্বাধীনতা বজায় থাকবে।”
তাহলে কি তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না? সরাসরি উত্তর না দিলেও শান্ত বলেন, “বোর্ড এখনো আমার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেনি। আমি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছি এবং যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে নেব।” তবে তিনি চান, “একজন অধিনায়ককে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে রাখা হোক এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হোক।”
বিসিবির চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহমুদুল্লা
অন্যদিকে, বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদুল্লা। বিসিবির নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তার নাম ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল। এই ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা মাসে ৬ লাখ টাকা বেতন পান। কিন্তু মাহমুদুল্লা নিজেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বিষয়টি বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে মার্চ থেকে বিসিবির চুক্তিতে তার নাম থাকছে না। ফলে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারের সংখ্যা ২২ থেকে কমে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, মুশফিকুর রহিমকেও ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার কারণে বিসিবি তার মাসিক বেতন ৮ লাখ থেকে কমিয়ে ৬ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র টেস্ট ক্রিকেটে খেলবেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কী?
নেতৃত্বের বিষয়ে শান্তর শর্ত এবং মাহমুদুল্লার চুক্তি ত্যাগ করা, এই দুই ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অস্থিরতা কাটতে এখনও বেশ সময় লাগবে।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে