কেদারনাথ যাত্রা হবে রোপওয়ে!
এবার কেদারনাথ যাওয়ার পথ আরও সহজ হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার সোনপ্রয়াগ থেকে কেদারনাথ পর্যন্ত ১২.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ে তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। এখন পায়ে হেঁটে, ঘোড়ায় চেপে বা পালকিতে করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেই কেদারনাথ পৌঁছতে হয়। রোপওয়ে চালু হলে মাত্র ৩৬ মিনিটেই তীর্থযাত্রীরা মন্দিরের কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন। বিশেষত, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য এটি এক বড় সুবিধা হবে।
এই প্রকল্পের জন্য ৪,০৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আগামী চার থেকে ছয় বছরের মধ্যেই রোপওয়ে তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও, উত্তরাখণ্ডের হেমকুণ্ড সাহিব তীর্থস্থানেও ১২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি রোপওয়ে তৈরি করার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।
কেন দরকার রোপওয়ে?
কেদারনাথ পৌঁছতে হলে এখন সোনপ্রয়াগ থেকে গৌরীকুণ্ড পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে, তারপর গৌরীকুণ্ড থেকে ১৬ কিলোমিটার পাহাড়ি পথে হাঁটতে হয়। এই দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রা করতে অনেকেই সক্ষম নন। যারা হাঁটতে পারেন না, তাদের একমাত্র বিকল্প হেলিকপ্টার, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। রোপওয়ে তৈরি হলে সাধারণ মানুষ অনেক কম খরচে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কেদারনাথ পৌঁছতে পারবেন।
২০২৩ সালে প্রায় ২৩ লক্ষ তীর্থযাত্রী কেদারনাথ গিয়েছিলেন। রোপওয়ে চালু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, এতে স্থানীয় পর্যটন শিল্পও অনেক লাভবান হবে। তবে, রোপওয়েতে যাওয়ার খরচ কমবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উন্নত প্রযুক্তির রোপওয়ে
এই রোপওয়ে তৈরি হবে অত্যাধুনিক ‘ট্রাই-কেবল ডিট্যাচেবল গন্ডোলা’ প্রযুক্তিতে। এতে একসঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,৮০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। দিনে প্রায় ১৮,০০০ তীর্থযাত্রী রোপওয়ে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পরিবেশের ওপর প্রভাবের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। রোপওয়ে নির্মাণের ফলে যেন পাহাড়ি পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকছে প্রশাসন।
হেমকুণ্ড সাহিবেও রোপওয়ে
কেন্দ্রীয় সরকার হেমকুণ্ড সাহিবে যাওয়ার জন্যও রোপওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিখদের অন্যতম পবিত্র স্থান হেমকুণ্ড সাহিব চামোলি জেলায় অবস্থিত এবং এটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায়। বর্তমানে, এখানে পৌঁছতে হলে গোবিন্দঘাট থেকে দীর্ঘ ও দুর্গম পথ ট্রেক করে যেতে হয়। নতুন রোপওয়ে হলে এই পথ অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং আরও বেশি তীর্থযাত্রী সেখানে যেতে পারবেন।
রোপওয়ে প্রকল্পের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, পর্যটকরা সহজেই ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স’ বা ফুলের উপত্যকায় পৌঁছতে পারবেন।
উপসংহার
কেদারনাথ ও হেমকুণ্ড সাহিবে রোপওয়ে চালু হলে উত্তরাখণ্ডের পর্যটন আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত দিকগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা হয়।
ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও