ফের বামাক্ষ্যাপা সব্যসাচী!
ছোট পর্দার জনপ্রিয় সাধক ‘বামাক্ষ্যাপা’ এ বার বড় পর্দায়। স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়ালে এই চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন সব্যসাচী চৌধুরী। এবার এসভিএফ প্রযোজিত নতুন সিনেমাতেও তিনিই বামাক্ষ্যাপা। তবে একই চরিত্রে বারবার অভিনয় করায় কি তিনি টাইপকাস্ট হয়ে যাচ্ছেন? দর্শক কি তাঁকে শুধুই সাধকের চরিত্রেই দেখতে চাইবেন?
এই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে সব্যসাচী নিজেই দিলেন উত্তর।
🔷 ‘একঘেয়ে কাজ করতে চাই না’, বলছেন পরিচালক
এই ছবির পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল, যিনি সাধারণত রহস্য-থ্রিলার ধাঁচের ছবি বানান। কিন্তু এবার হঠাৎ ঘরানা বদল কেন?
সায়ন্তনের যুক্তি,
👉 “একই ধরনের ছবি বানানো মানে ১০টা-৫টার চাকরি করা! কেন করব? তাই ভিন্ন কিছু করতে চাই। তাছাড়া বামাক্ষ্যাপার মতো চরিত্রে গভীরতা আছে, যা বড় পর্দায় তুলে ধরা যায়।”
সায়ন্তন বিশ্বাস করেন, সব্যসাচীর মতো কেউ এই চরিত্রকে এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না।
🔷 বড় পর্দায় আরও বিস্তৃত ‘বামাক্ষ্যাপা’
সব্যসাচীর মতে,
👉 “ছোট পর্দায় বামাক্ষ্যাপার গল্প সীমাবদ্ধ ছিল। বড় পর্দায় সেই কাহিনি আরও বিস্তৃত, গভীর ও সিনেম্যাটিক হবে।”
👉 এই ছবিতে শুধু মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়ই নয়, তিনি সৃজনশীল পরিচালক ও চিত্রনাট্য লেখাতেও যুক্ত রয়েছেন।
তাহলে কি এটা তাঁর কেরিয়ারে নতুন মোড়?
👉 “ছোট পর্দার কাজ করতে করতেই আমি বামাক্ষ্যাপাকে নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি। সেটাই এবার কাজে লাগছে,” বললেন অভিনেতা।
🔷 ছবির শুটিং কোথায় হবে?
ছবির শুটিং মূলত বীরভূম ও তারাপীঠের মতো জায়গায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন কলকাতার স্টুডিওতেই সেট তৈরি করে শুটিং করার পরিকল্পনা নিয়েছেন পরিচালক।
👉 “আগের মতো কিছু নেই। বীরভূমের প্রত্যন্ত এলাকাতেও এখন শহরের ছোঁয়া লেগেছে। তাই বাস্তবসম্মত সেট বানিয়ে শুটিং করব,” বললেন সায়ন্তন।
সব্যসাচীর জনপ্রিয়তা নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত পরিচালক।
👉 “ওকে যখন তারাপীঠে নিয়ে গিয়েছিলাম, সাধারণ মানুষ দেখে সাধকের মতো প্রণাম করতে শুরু করল! এটা আমার কাছে অবাক করা বিষয়।”
🔷 কিন্তু বারবার একই চরিত্র? টাইপকাস্ট হয়ে যাচ্ছেন না?
সব্যসাচীর জনপ্রিয়তা বেড়েছে এই চরিত্র দিয়েই। তবে একই চরিত্রে বারবার অভিনয় করা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন। তবে অভিনেতা ও পরিচালক দুজনেই একে সমস্যা মনে করছেন না।
👉 পরিচালকের যুক্তি,
“বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে সব্যসাচীর মতো পারফরমার এই মুহূর্তে নেই। তিনি চরিত্রটা এত ভাল বোঝেন যে, সেটাই আমাদের কাজে লাগবে। তাছাড়া, দর্শকদের জন্যও এটি সহজ হবে।”
👉 সব্যসাচীর যুক্তি,
“একই চরিত্রে অভিনয় করলে সমস্যা কোথায়? বরং দর্শক সহজে চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারবেন।”
তবে তিনি একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না।
👉 “এই কারণেই ‘রাপ্পা রায়’ ছবিতে আমি ভয়ঙ্কর খলনায়ক! সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী চরিত্র, যেখানে আমার অভিনয়ের আলাদা স্তর দেখানো যাবে।”
🔷 ভবিষ্যতে নায়ক হওয়ার ইচ্ছে?
এই প্রশ্নে হেসে সব্যসাচী জানালেন,
👉 “নায়ক হওয়ার বাসনা নিয়ে অভিনয় জগতে আসিনি। আমি চাই দর্শক আমাকে একজন ভাল অভিনেতা হিসেবে মনে রাখুক।”
তাহলে কি তিনি শুধুই চরিত্রাভিনেতা হয়ে থাকতে চান?
👉 “যতদিন ভাল চরিত্র পাব, অভিনয় চালিয়ে যাব। চরিত্রের গভীরতাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
🔚 শেষ কথা
সব্যসাচী আবারও বামাক্ষ্যাপা হয়ে ফিরছেন, তবে এবার আরও বড় ক্যানভাসে। তবে তিনি টাইপকাস্ট হয়ে যাচ্ছেন কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও অভিনেতা নিজে মনে করেন, চেনা চরিত্রে অভিনয় করলেই যদি দর্শক খুশি হন, তাহলে আপত্তির কিছু নেই।
তবে নতুন চরিত্রে তাঁকে দেখতে চাইলে দর্শকদেরও অপেক্ষা করতে হবে ‘রাপ্পা রায়’-এর মতো ছবির জন্য।
‘প্যাক-ফ্যাক’ থেকে ‘আমার আইপ্যাক’— কেন বদলে গেল মমতার অবস্থান?