ওড়িশার উত্তমকুমার!
বাংলায় যেমন উত্তমকুমার, ঠিক তেমনই ওড়িশায় জনপ্রিয় ছিলেন উত্তম মহান্তি। শুধু নামেই নয়, চেহারা, ব্যক্তিত্ব আর হাসিতেও ছিলেন তিনি ‘উত্তম‘। এক সময়ের এই সুপুরুষ নায়ক ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর প্রথমদিকের সহ-অভিনেতা। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ঋতুপর্ণা।
🎙️ অভিনেত্রী বললেন—
“বাংলায় যেমন উত্তমকুমার, ওড়িশায় তেমনই উত্তম মহান্তি। ওঁর হাসিমুখ দেখলেই মন ভালো হয়ে যেত।”
🎬 ‘উত্তম’ ছিলেন প্রথমদিকের নায়ক
ওড়িশার এই জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা। তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা সময়গুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন—
“বারিপদায় কত নাচের দৃশ্যের শুটিং করেছি আমরা! এত হিট ছবির নায়ক হয়েও কী মিষ্টি ব্যবহার! আমাকে উল্টো ডেকে বলতেন, ‘সুইট মেয়ে’!”
ঋতুপর্ণা তখন সদ্য অভিনয় জগতে পা রেখেছেন। সেটে প্রথম দেখাতেই উত্তম মহান্তি মুগ্ধ হয়েছিলেন। বাকিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন—
💬 “এই ছোট্ট, মিষ্টি মেয়েটা কে?”
সেই থেকেই তাঁর ডাকনাম হয়ে যায় ‘সুইট মেয়ে’।
🎭 অভিনয়ের বাইরেও বন্ধুত্ব
শুধু পর্দায় নয়, অভিনয়ের বাইরেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল দারুণ। একসঙ্গে ওড়িয়া ছবিতে কাজ করার পাশাপাশি বাংলা ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন উত্তম মহান্তি।
🎥 পরিচালক স্বপন সাহার একটি ছবিতে তিনি ঋতুপর্ণার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
🏡 শুটিংয়ের সময় কলকাতায় লেক মার্কেটের এক গেস্ট হাউসে থাকতেন উত্তম মহান্তি।
🍛 তখনই ঋতুপর্ণার বাড়িতে যেতেন, আড্ডা দিতেন, খাওয়াদাওয়া করতেন।
👨👧 অভিনেত্রীর বাবার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ছিল অপরিসীম।
💬 “উত্তমদা যখনই কলকাতায় আসতেন, আমাদের বাড়িতে আসতেন। গল্প-আড্ডায় কত সময় কেটে যেত বুঝতেই পারতাম না।”
🎞️ ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রির ‘রোম্যান্টিক লিজেন্ড’
ঋতুপর্ণার মতে, উত্তম মহান্তি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রির ‘রোম্যান্টিক ঘরানার’ পথপ্রদর্শক।
🎙️ তিনি বলেন—
“উত্তমদা ওড়িয়া বিনোদন দুনিয়ায় এক আলাদা রোম্যান্টিক ঘরানা তৈরি করেছিলেন। যা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ওঁর রাজ্য।”
তারকা অভিনেতার ছেলে বাবুসান মহান্তি এখন ওড়িশার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা।
ঋতুপর্ণা আশা প্রকাশ করে বলেন—
“উত্তমদার ছেলে বাবুসানও নিজের প্রতিভায় খ্যাতনামী। আশা করি, সে বাবার ঐতিহ্য সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
💐 শেষ শ্রদ্ধা
💔 একসময় যাঁর সঙ্গে এত স্মৃতি, সেই মানুষ আজ আর নেই। অভিনেত্রীর কণ্ঠেও তাই শোকের সুর।
“আমার প্রথম দিকের নায়ক ছিলেন উত্তম মহান্তি। আজও মনে পড়ে ওঁর হাসি, ব্যবহার… এত সুন্দর মানুষ ছিলেন!”
🎬 তিনি চলে গেলেও তাঁর সিনেমা, তাঁর অভিনয় আজও জীবন্ত। ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রির এক নক্ষত্র পতন হলেও, তাঁর স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে তাঁর অনুরাগীদের মনে।
৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল, কম্পন অনুভূত শিলিগুড়িতেও! আতঙ্কে রাত কাটালেন বাসিন্দারা