পানাগড় দুর্ঘটনায় নতুন মোড়!
পানাগড় দুর্ঘটনা নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। প্রথমে অভিযোগ উঠেছিল, মত্ত যুবকদের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন চন্দননগরের ২৭ বছরের ইভেন্ট ম্যানেজার সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। পরে পুলিশের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। তাহলে সেই রাতে ঠিক কী হয়েছিল? পুলিশি তদন্তের নতুন তথ্য কি বদলে দেবে ঘটনাপ্রবাহ?
সেই রাতের রহস্য উন্মোচন
গত রবিবার রাতে পানাগড়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, এটা শুধুই গাড়ির রেষারেষির ফল।
চন্দননগর থেকে আসানসোলের দিকে যাচ্ছিল সুতন্দ্রাদের নীল রঙের গাড়ি। পথে বুদবুদ থানার কাছে একটি পেট্রোল পাম্পে দাঁড়িয়েছিল তারা। পেট্রোল ভরে ফের রওনা দেয় দলটি। তখনই সামনে দেখা যায় একটি সাদা রঙের গাড়িকে।
ধাওয়া শুরু হয়েছিল কীভাবে?
পুলিশ সূত্রের দাবি, পানাগড়ের কাছেই সাদা গাড়িটি বাঁ দিকে ইন্ডিকেটর দিয়ে জিটি রোডের দিকে ঘুরতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই ওভারটেক করার চেষ্টা করে সুতন্দ্রাদের গাড়ি। সেই চেষ্টায় দু’টি গাড়ির মধ্যে হালকা ধাক্কা লাগে। এরপরই দু’টি গাড়ির মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
সিসিটিভি ফুটেজ যা বলছে
পুলিশের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, সুতন্দ্রাদের গাড়িই সাদা গাড়িটিকে ধাওয়া করছিল, উল্টোটা নয়। ধাওয়ার সময় একবার সাদা গাড়িটিকে ওভারটেক করেও থামিয়ে দেয় সুতন্দ্রারা। কিন্তু সাদা গাড়ির যুবকেরা কোনও ঝামেলায় না জড়িয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে থাকে। এরপরই আবার তাদের পিছু নেয় সুতন্দ্রাদের গাড়ি।
তদন্তকারীদের দাবি, সেই সময় গতি বেড়ে যায়, এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শৌচাগারের গায়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে সুতন্দ্রাদের গাড়ি।
কী বলছে প্রত্যক্ষদর্শীরা?
ঘটনার পর সাদা গাড়িটির যুবকেরা গাড়ি রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ এসে সুতন্দ্রার মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং চার সঙ্গীকে থানায় নিয়ে যায়।
প্রথমে ‘ইভটিজিং’-এর অভিযোগ, পরে মত বদল
প্রথমে সুতন্দ্রার সঙ্গীরা পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ জানাননি। কিন্তু পরদিন সকালে তাঁরা দাবি করেন, মত্ত যুবকদের ধাক্কাতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের তদন্তের পর সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
এই ঘটনার চার প্রত্যক্ষদর্শী ইতিমধ্যেই দুর্গাপুর আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, তদন্ত প্রায় শেষের দিকে এবং খুব শীঘ্রই সমস্ত তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
তদন্তের নতুন মোড়ের পর প্রশ্ন উঠছে, প্রকৃত দোষী কে? দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারা? পুলিশের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।
গঙ্গায় ট্রলি ব্যাগে লাশ ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা মা-মেয়ে! কী বলল জেরায়?