ফিরছেন ‘নায়ক’ উত্তমকুমার
বাঙালি সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এটি যেন এক সুখবর। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি উত্তমকুমার। তবে এবার এক বিশেষ উপলক্ষ্যে – সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবির পুনর্মুক্তিতে। আর এই পুনর্মুক্তির পিছনে রয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিনি উত্তমকুমারের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা দিয়ে এই প্রজন্মের কাছে ফের তুলে ধরতে যাচ্ছেন তাঁকে। সৃজিত এবং উত্তমকুমারের সম্পর্ক একটি দীর্ঘকালীন এবং অটুট বন্ধনের রূপ নিয়েছে, যা ‘অটোগ্রাফ’ থেকে শুরু হয়ে ‘অতি উত্তম’ ছবির মাধ্যমে নতুন করে সাড়া ফেলেছে।
‘নায়ক’-এর বিশেষ পুনর্মুক্তি
উত্তমকুমারের অন্ধ ভক্তদের জন্য এটি এক অমূল্য উপহার। সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিনি বাংলা সিনেমায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন, এবার উত্তমকুমারের ‘নায়ক’ ছবির পুনর্মুক্তি করার মাধ্যমে বাংলা সিনেমা প্রেমীদের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা দিতে যাচ্ছেন। ছবিটি সারা ভারতেই মুক্তি পাবে এবং কলকাতার প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হবে। এই ছবির মুক্তি শুধু একটি সিনেমার ফিরিয়ে আনা নয়, বরং একটি যুগের ফিরিয়ে আনা, যেখানে উত্তমকুমার রূপে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি স্বর্ণযুগকে প্রতিফলিত করেছেন।
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নিবেদন
এই ছবির পুনর্মুক্তি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের একটি নিবেদন, যা তাঁর জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। সৃজিত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় থেকেই ‘নায়ক’ আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে। বহুবার ছবির সংলাপগুলো আমি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করেছি। ছবির সংঘাতগুলো এত পরিচিত, এত বাস্তব, যে তা হৃদয়ে গভীরভাবে মিশে গেছে।” সৃজিতের কাছে ‘নায়ক’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের স্মৃতিময় অভিজ্ঞতা
প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের মালিক অরিজিৎ দত্তও উত্তমকুমারের ‘নায়ক’ ছবির পুনর্মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী। তিনি জানান, “যে পুরনো ছবি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে, সেগুলো আবার দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে আছেন প্রয়াত আরডি বনশলের কন্যা বর্ষা বনশলও, যিনি ‘নায়ক’ ছবির প্রযোজক ছিলেন।” তিনি আরও জানান, ছবিটি বিকেল ৫টা বা সন্ধ্যা ৬টা সময়ে প্রদর্শিত হতে পারে এবং প্রথম সপ্তাহের জন্য ছবিটি দেখানো হবে। যদি দর্শকদের আগ্রহ থাকে, তবে সময়সীমা বাড়ানো হবে। এর পরবর্তী সময়ে, আরো এক সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘জন অরণ্য’-এর পুনর্মুক্তি হতে পারে।
উত্তমকুমারের ‘নায়ক’ ছবির পুনরুদ্ধার
‘নায়ক’ ছবিটি উত্তমকুমারের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবির মধ্যে পড়ে। ছবিটি শুধু তার অভিনয় গুণের জন্য নয়, বরং তার ব্যক্তিগত জীবনের ছায়া ফুটে ওঠার জন্যও বিশেষ স্মরণীয়। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ছবির প্রতি তার ভালোবাসা কখনও কমেনি। তিনি বলেন, “ছবিটি কখনো মনের কোণে চাপা পড়তে পারেনি। এটি আমার হৃদয়ের খুব কাছে।”
এদিকে, ছবির মুক্তির দিন প্রেক্ষাগৃহে উত্তমকুমারের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই অনুষ্ঠানকে আরও বিশেষ করে তুলবে।
বাঙালি চলচ্চিত্রের এক কাল্পনিক নায়ক হিসেবে উত্তমকুমার আজও সবার মনে জীবন্ত। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এই প্রয়াস বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের মনে তার উত্তম-ম্যানিয়ার রং আরও উজ্জ্বল করবে, এবং নতুন প্রজন্মকে দেখাবে বাংলা সিনেমার ইতিহাসের একটি অমূল্য রত্ন।
গোটা রান্না: সরস্বতী পুজোয় পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য, চচ্চড়ির স্বাদে নতুনত্ব