অনলাইন ট্রেডিংয়ে দ্বিগুণ টাকা আয়?
অনলাইন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে সহজে দ্বিগুণ টাকা আয় করার সুযোগ! এমনই প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনে ফাঁদে পড়েন মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ী। সাইবার অপরাধীদের এমন প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি ১১ কোটি টাকা হারিয়ে ফেলেন। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ দুটি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, এবং আরও দুই অভিযুক্তকে ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাইবার অপরাধীরা মুম্বইয়ের কোলাবা এলাকার এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে তাঁকে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলে। প্রথমে তাঁকে বলা হয়, যে পরিমাণ টাকা তিনি বিনিয়োগ করবেন, তার দ্বিগুণ টাকা আয় করতে পারবেন। ‘ক্লাব ১৭’ নামে একটি ভুয়ো বিনিয়োগ সংস্থা চালু করা হয়েছিল, যেখানে মজার মুনাফার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। ব্যবসায়ীকে জানানো হয় যে, বড় অঙ্কে বিনিয়োগ করলে তিনি বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন।
কিছুদিন পর, ব্যবসায়ীকে একটি হোয়াট্সঅ্যাপ মেসেজ আসে। মেসেজটি আসে “অনন্যা স্মিথ” নামে এক মহিলার অ্যাকাউন্ট থেকে, যিনি নিজেকে ‘ক্লাব ১৭’ সংস্থার সদস্য বলে পরিচয় দেন। মেসেজে শেয়ার এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়, এবং ব্যবসায়ীকে আরও বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করা হয়। ধীরে ধীরে সাইবার অপরাধীরা তার বিশ্বাস অর্জন করে নেয়।
এরপর, ব্যবসায়ীকে একটি অনলাইন ট্রেডিংয়ের লিঙ্ক পাঠানো হয়। ওই লিঙ্কের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে জানানো হয় যে, তিনি সেখানে লগ ইন করে তাঁর বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন—কত টাকা লাভ হয়েছে, কোন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে কি পরিবর্তন হয়েছে, ইত্যাদি। এই লিঙ্কে গিয়ে ব্যবসায়ী বিনিয়োগ শুরু করেন, এবং এক মাসের মধ্যে ২২ বার লেনদেন করে ১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। মুনাফা আসতে শুরু করে, যা তাকে আরও প্রলুব্ধ করে তোলে।
তবে, যখন ব্যবসায়ী তাঁর টাকা তুলে নিতে চেয়েছিলেন, তখনই সমস্যা তৈরি হয়। তাঁকে জানানো হয় যে, তার অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি সাইবার অপরাধীদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর, তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুটি ব্যক্তি, দীনেশ দুলাপুরিয়া এবং রাজেশ কোরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্ত, রামকিশোর কোরি এবং মুক্তার সৈয়দ এখনও পলাতক। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এটি ছিল এক জঘন্য সাইবার প্রতারণার ঘটনা, যা সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। অনলাইনে বিনিয়োগ বা ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সাইবার অপরাধীরা নানা ধরণের ফাঁদ পেতে থাকে, এবং কোনও অবহেলার কারণে আপনি হয়ে উঠতে পারেন তাদের পরবর্তী শিকার।
বিয়ের মরসুমে সোনা ৮১ হাজার পেরোল! গয়না না কিনে কীভাবে বিনিয়োগে লাভ বাড়ানো যায়?