বাড়ল চাষ, আলু রফতানি নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তের দাবি

বাড়ল চাষ, আলু রফতানি এ বছর রাজ্যে আলু চাষের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। রাজ্যের কৃষি দফতর জানাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় চাষের জমি এবং ফলনের সম্ভাবনা দুটোই বেশি। গত বছর…

January 20, 2025
0 min read

বাড়ল চাষ, আলু রফতানি

এ বছর রাজ্যে আলু চাষের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। রাজ্যের কৃষি দফতর জানাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় চাষের জমি এবং ফলনের সম্ভাবনা দুটোই বেশি। গত বছর যেখানে প্রায় ৪ লক্ষ ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ কোটি টন, সেখানে এ বছর চাষ হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “আমাদের ধারণা, চাষের এলাকা আরও বাড়বে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, তাই ফলনও ভাল হবে বলে আশা করছি।”

চাষের এলাকা বৃদ্ধি কেন?

রাজ্যের কৃষি উপদেষ্টা তথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, চাষিদের ভাল দাম পাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধার ফলেই চাষের এলাকা বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, যা চাষিদের আস্থা বাড়িয়েছে। এ ছাড়াও, আলুর বিমা করানোর জন্য চাষিদের কোনও খরচ বহন করতে হয়নি। এই সুবিধাগুলি চাষিদের আলু চাষের প্রতি উৎসাহী করেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে অনেক চাষের ক্ষতি হয়েছিল। অনেকে বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকেছিলেন। পাশাপাশি, আলুবীজ ও সারের কালোবাজারি নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এ বছর সেই সমস্যাগুলি তেমনভাবে দেখা যায়নি। ফলে, চাষের সামগ্রী সহজলভ্য হওয়ায় আলু চাষ বেড়েছে।

হিমঘরে আলুর মজুত ও রফতানির জটিলতা

চাষিরা বেশি পরিমাণে আলু চাষ করলেও গত বছরের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর রাজ্য সরকার আলু রফতানি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করেছিল, যার জেরে রাজ্যের হিমঘরগুলোতে এখনও প্রায় দেড় লক্ষ টন আলু মজুত রয়েছে। নতুন আলু বাজারে আসার আগে এই মজুত নিয়ে আলু ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‘প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি’র রাজ্য সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় বলছেন, “এ বার আবহাওয়া ভাল। আলুর ফলন আরও বাড়বে। কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করবে। তবে সরকারের উচিত এখনই রফতানি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া। যদি রফতানির ক্ষেত্রে ফের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, তাহলে চাষিরা ন্যায্য দাম পাবেন না।”

সংগঠনের সভাপতি জগবন্ধু মণ্ডলের বক্তব্য আরও কড়া। তিনি বলেন, “রাজ্যে যত আলু উৎপাদন হয়, তার পুরোটা রাজ্যের বাজারে খরচ হয় না। যদি রাজ্য সরকার বাইরে আলু পাঠাতে বাধা দেয়, তাহলে চাষিরা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন, তা স্পষ্ট।”

সরকারি সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা

সরকারি টাস্ক ফোর্সের সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলে মনে করছেন, “এ বছর অন্তত ২০ শতাংশ বেশি ফলন হতে পারে। তবে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নতুন আলু বাজারে আসার আগে থেকেই আমরা দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করছি। যদি বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকে, তবে রফতানিতে কোনও সমস্যা হবে না।”

তবে আলু ব্যবসায়ী এবং চাষিদের মতে, ফলন বেশি হলে তার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে রফতানির সুযোগ অপরিহার্য। কারণ রাজ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর যে পরিমাণ আলু বাকি থাকবে, তা বাইরে পাঠানোর সুযোগ না পেলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম হঠাৎ কমে যাবে। এতে চাষিদের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

চাষিদের ভবিষ্যৎ

রাজ্যের চাষিরা চাইছেন, সরকার যেন রফতানি নীতি নিয়ে আগে থেকেই একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা নেয়। এতে চাষিরা আগে থেকে তাদের উৎপাদন এবং বিক্রয়ের পরিকল্পনা করতে পারবেন। চাষের খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও সব সময় থেকেই যায়। এই অবস্থায় চাষিদের ন্যায্য দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

উপসংহার

রাজ্যের আলু উৎপাদনের এই চক্রে সরকার, ব্যবসায়ী এবং চাষিদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রফতানি নীতি এবং দাম নিয়ন্ত্রণে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, তবে চাষিরা বিপাকে পড়তে পারেন। তাই আলু চাষ এবং রফতানি নিয়ে সরকারের আগাম পদক্ষেপ চাষিদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।

কুম্ভমেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ছড়াল আতঙ্ক, পুড়ল একাধিক তাঁবু

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *