অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ‘সুপারবাগস্’ নাশ করতে নতুন ওষুধ তৈরি হল দেশে, কতটা সফল জ়ায়নিচ?

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ‘সুপারবাগস্’ বর্তমান বিশ্বে একদিকে যেমন নানা রকম অসুখ-বিসুখ মানুষকে আক্রান্ত করছে, তেমনই অন্যদিকে বহু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে নতুন এক বিপদ— ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স’। এর ফলে…

January 16, 2025
1 min read

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ‘সুপারবাগস্’

বর্তমান বিশ্বে একদিকে যেমন নানা রকম অসুখ-বিসুখ মানুষকে আক্রান্ত করছে, তেমনই অন্যদিকে বহু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে নতুন এক বিপদ— ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স’। এর ফলে অনেকের শরীরেই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব আর দেখা যাচ্ছে না, এবং তা বহু রোগের নিরাময়ের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন একযোগে এই সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারত একটি বিপ্লবী নতুন ওষুধ তৈরি করেছে, যার নাম ‘জ়ায়নিচ’। এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, বা ‘সুপারবাগ’ মারার জন্য।

সুপারবাগস্

জ়ায়নিচ: সুপারবাগগুলির বিরুদ্ধে এক কার্যকরী লড়াই

মুম্বইয়ের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা ওকহার্ট তৈরি করেছে নতুন এই ওষুধ, যা দুটি অ্যান্টিবায়োটিক—জ়াইব্যাকটাম ও সেফেপাইমের সংমিশ্রণে তৈরি। ওষুধটি এমন সব ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী, যেগুলি সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ওষুধটি একেবারে নতুন ধরনের ‘কম্বিনেশন ড্রাগ’। এতে দুই অ্যান্টিবায়োটিকের মিশ্রণ থাকায় এর প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে এই ওষুধটি শরীরে ঢুকে এমন ব্যাকটেরিয়াদের ধ্বংস করতে সক্ষম, যারা এতদিন অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

জ়ায়নিচের ক্লিনিকাল ট্রায়াল ইতিমধ্যে ৯৭ শতাংশ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক ফলাফল দিয়েছে। এর তিনটি পর্যায়ের ট্রায়াল সাফল্যের সঙ্গে শেষ হওয়ায়, এটি এখন মানুষের শরীরে প্রয়োগের জন্য অনুমতি পেতে পারে। তবে, এখনও কিছু পরীক্ষামূলক পর্যায় চলছে, এবং ফলাফল আরও নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অযথা ব্যবহার এবং তার ফল

চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অযথা প্রয়োগ শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আমাদের দেশে ঋতু পরিবর্তনের সময় সংক্রমণ অনেক বেড়ে যায়, আর সেই সময় নানা ধরনের অসুখ ছড়াতে থাকে। এর মধ্যে সাধারণ সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা, মূত্রনালির সংক্রমণ—এই ধরনের অসুখগুলো প্রতিরোধ করতে মানুষ অযথা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলে। এতে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক সময় যা সহজেই সারানো যেত, তা এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এর ফলে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকগুলো এখন আর তেমন কার্যকরী নয়। সেক্ষেত্রে, নতুন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির প্রয়োজনীয়তা ছিল, এবং তারই ফলস্বরূপ তৈরি হয়েছে ‘জ়ায়নিচ’। এটি এমন একটি ওষুধ, যা অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী জীবাণুদের মোকাবিলা করতে সক্ষম।

ফলপ্রসূ ট্রায়াল এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

জ়ায়নিচের ট্রায়াল ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ৯৭ শতাংশ সফলতা অর্জন করেছে এই নতুন ওষুধ, যা ভারতীয় ওষুধ শিল্পের জন্য একটি বড় অর্জন। তবে, এখনও কিছু ট্রায়াল চলমান, এবং কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা পরীক্ষার জন্য অনুমতি দিয়েছে। যদি পরবর্তী পরীক্ষাগুলি সফল হয়, তাহলে এই ওষুধটিকে সরকারিভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে এবং তা বাজারে পৌঁছাবে।

তবে, এই উন্নতির পাশাপাশি চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, শুধুমাত্র নতুন ওষুধের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

একটি নতুন দিগন্তের সূচনা

‘জ়ায়নিচ’ এই ধরনের ওষুধগুলির মধ্যে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে এটি অনেক আশার আলো দেখাচ্ছে, তবে এর সফলতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হতে কিছু সময় লাগবে। রোগ প্রতিরোধের এই নতুন উপায়টি যদি সফলভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বহু জীবন বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।

জামশেদপুর ম্যাচের জন্য কীভাবে তৈরি হচ্ছে বাগান? থাকছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, আর কী কী

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *