পরীমণির অকপট কথোপকথনে উঠে এল টলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি। মাতৃত্বের পরে অভিনয়ের জগতে ফেরা এবং প্রথমবার টলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আনন্দবাজার অনলাইনকে জানালেন তাঁর মনের কথা। দেবরাজ সিংহ পরিচালিত ‘ফেলু বক্সী’ ছবিতে অভিনয় করে প্রথমবার কলকাতার দর্শকদের সামনে আসছেন পরী। নিজের চরিত্র, টলিউডের অভিজ্ঞতা, মাতৃত্বের দায়িত্ব আর প্রেম নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করলেন তিনি।
টলিউডে পরীর যাত্রা
পরীমণি জানান, প্রথমে টলিউডে অভিনয়ের কোনো প্রস্তুতি নিয়ে আসেননি। মাতৃত্বের কারণে কাজ ছেড়েছিলেন, কিন্তু ‘ফেলু বক্সী’ ছবির চরিত্র তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, ‘না’ বলতে পারেননি।
“তখন পদ্ম (পরীমণির সন্তান) খুব ছোট। সব সময় ওকে নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু ছবির গল্প আর আমার চরিত্র শোনার পর মনে হল, এটা এমন একটা কাজ যা আমার মন ছুঁয়ে গেছে। তাই আর ফেরাতে পারিনি,” বললেন পরী।
তবে টলিউডে কাজ নিয়ে তাঁর কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই বলে জানালেন তিনি। “সবাই ভাবে, এখানে কাজ করতে গেলে হয় দেব বা জিৎ-এর নায়িকা হতে হবে, নয়তো সৃজিত মুখোপাধ্যায় বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতে থাকতে হবে। কিন্তু আমি এসব ভাবিনি। আমার কাছে সব কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুনদের সঙ্গে কাজ করেও দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে।”

নায়িকা নয়, অভিনেত্রী হতে চান পরীমণি
পরীমণির কাছে চরিত্রই প্রধান। তিনি বলেন, “টলিউডে নায়িকারা সাধারণত নাচাগানা, প্রেম, দুই পরিবারের ঝগড়া— এসবের মধ্যে আবদ্ধ। কিন্তু আমি এই সীমাবদ্ধতার বাইরে কাজ করতে চেয়েছি। ‘ফেলু বক্সী’র চরিত্রটা আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছে।”
মাতৃত্বের পরে শারীরিক পরিবর্তন নিয়েও সচেতন পরী। “শিফন শাড়ি পরে নাচার মতো ছিপছিপে আর নেই। তাই নায়িকার চরিত্রে না গিয়ে এমন কিছু বেছে নিয়েছি যা আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই,” বললেন তিনি।
কলকাতা নিয়ে পরীর অনুভূতি
কলকাতার প্রতি ভালোবাসা লুকোননি পরীমণি। “কলকাতায় কাজ করতে এসে মনে হল আমি কোনো বিদেশে আসিনি। ভাষা এক, সংস্কৃতি এক। সবাই খুব আন্তরিক। মনে হয় যেন পাশের বাড়িতেই আছি।”
তবে কলকাতায় বাড়ি কেনার ইচ্ছে তাঁর এখনও আছে। “একটা ছোট্ট বাড়ি কিনব ভাবছি। কলকাতায় যখনই আসব, নিজের বাড়িতে থাকব,” বললেন তিনি।
সোহম, মধুমিতা আর শুটিংয়ের গল্প
পরী তাঁর সহ-অভিনেত্রী মধুমিতা চক্রবর্তীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। “আমাদের দেশে মধুমিতাকে ‘পাখি’ নামেই চেনে। কী সুন্দর মিষ্টি মেয়ে! কাজের ফাঁকে আড্ডা দিয়েছি। মনে হয়েছে, আমরা দুই বাংলার দুই ‘পাখি-পরী’।”
নায়ক ও প্রযোজক সোহম চক্রবর্তী সম্পর্কে বললেন, “সোহমদার মতো সহযোগী মানুষ খুব কম। একবার শুটিংয়ের সময় দেহরক্ষীরা মনোযোগ নষ্ট করছিলেন। সোহমদাকে বলতেই তিনি হেসে তাঁদের সরিয়ে দিলেন। এমন আন্তরিকতা মুগ্ধ করেছে।”
প্রেম, জীবন, এবং স্বপ্ন
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকেন পরীমণি। তাঁর একটি ভিডিওতে বন্ধুর হাত ধরে খেলার দৃশ্য দেখে অনুরাগীরা ভেবেছিলেন, হয়তো নতুন প্রেম এসেছে।
এ প্রসঙ্গে হেসে পরী বললেন, “আমার প্রেম নিয়ে লোকে যত উৎসাহী, আমি তত নই! এত প্রেম করেছি যে, প্রেমের কোটা শেষ। এখন প্রেমে নয়, নিজের কাজ আর ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবি।”
জীবন নিয়ে পরীর উপলব্ধি গভীর। তিনি বলেন, “আমি নামেই পরী। বাস্তব জীবনে আমি রক্ত-মাংসের মানুষ। রাগ, দুঃখ, ক্লান্তি সবই হয়। তবে এখন রাগ-অভিমান সব সরে গেছে। একা হাতে সন্তান মানুষ করছি। পেশাগত জীবনেও উন্নতি করতে চাই। যাতে ওরা গর্ব করতে পারে।”
নতুন স্বপ্নের পথে পরীমণি
অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করতে চান পরী। ভবিষ্যতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের ইচ্ছে প্রকাশ করে বললেন, “একবার কথা হয়েছিল, কিন্তু হয়নি। এখনো স্বপ্ন দেখি, বুম্বাদার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাব।”
পরীমণি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু নায়িকা নন—একজন মাটির কাছাকাছি মানুষ, যিনি জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসে জড়িয়ে রেখেছেন।
‘আইআইটি বাবা’: সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছেড়ে আধ্যাত্মিকতার পথে এক যুবা ইঞ্জিনিয়ারের যাত্রা