আবার মাথা তুলল মূল্যবৃদ্ধি
২০২৫-এর প্রথম মাসেই আবারও মাথা তুলেছে মূল্যবৃদ্ধি। যেখানে খুচরো বাজারে কিছুটা হলেও কমতির দিকে এগিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির হার, সেখানে পাইকারি বাজারের দামের গতি উল্টো ছবি তুলে ধরেছে। গত ডিসেম্বরের তুলনায় পাইকারি দাম বেড়েছে ২.৩৭ শতাংশ, যা আগের মাসের ১.৮৯ শতাংশ থেকে অনেকটাই বেশি। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হার, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম, এখনও খুচরো বাজারের তুলনায় পাইকারিতে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুচরো বাজারের তুলনায় পাইকারি বাজারের চিত্র
খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৫.২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের ৫.৫৬ শতাংশ থেকে কম। তবে পাইকারি বাজারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়েছে। ২০২৩-এর নভেম্বরে এটি ছিল ১.৮৯ শতাংশ, কিন্তু ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী বেড়ে হয়েছে ২.৩৭ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং এখনও বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। একদিকে খুচরো বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমছে, অন্যদিকে পাইকারিতে দাম বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত।

খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, তবে কিছু জিনিসের দাম কমেছে
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা হলেও সফলতা এসেছে। তবে পাইকারিতে খাদ্যপণ্যের দাম এখনও বাড়ছে। বিশেষ করে তৈলবীজ, খনিজ, অশোধিত তেল এবং তৈরি সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তবে কিছু খাদ্যপণ্যের দাম, যেমন আনাজ, আলু, এবং পেঁয়াজের দাম এখনও অনেকটা বেড়েছে।
ডিসেম্বর মাসে, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১৬.৮১ শতাংশ, আলুর দাম ৯৩.২০ শতাংশ এবং আনাজের দাম ২৮.৬৫ শতাংশ। যদিও খাদ্যশস্য, ডাল, গমের দাম কিছুটা কমেছে, তবুও পাইকারি বাজারের অস্থিরতা পুরোপুরি নিরসিত হয়নি।
অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়নি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
অর্থনীতির দিক থেকে এই অবস্থা কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। পটনা আইআইটি-র অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলেন, “খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধির হার কমলেও পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধি সঠিকভাবে স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি রিজার্ভ ব্যাংককে সতর্ক থাকতে বলে, অর্থনীতির সুস্থতার জন্য তাড়াহুড়া করে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং সাবধানী নীতি গ্রহণ করাই উত্তম।”
আইসিএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্তও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদক স্তরের দামের ওঠানামা নির্দেশ করে, এবং এটি সাধারণ ক্রেতার উপরেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শীতকালে আনাজ, আলু, পেঁয়াজের দাম কমার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা বেড়েছে।” তিনি আরও জানান, “ক্রেতারা পরিসংখ্যানের দিকে খুব একটা নজর দেন না, তাদের কাছে বাস্তব হচ্ছে বাজারে যেই পরিস্থিতি তারা দেখছেন।”
ভোগান্তি কাটবে কবে?
বাজারের এই অবস্থা এখনও চলমান। ক্রেতাদের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব পড়ছে, বিশেষ করে যে সব জিনিসের দাম বেড়েছে, তার জন্য তারা অস্থির। তবে, আগামীদিনে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে কিনা, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং, সরকার এবং অর্থনীতিবিদরা যদি আরও সাবধানী পদক্ষেপ নেন এবং বাজারের দিকে নজর রাখেন, তবেই হয়তো ভবিষ্যতে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।