বাঘাযতীনে হেলে পড়ল চারতলা ফ্ল্যাটবাড়ি!
দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীনে ঘটল একটি বড় ধরনের নির্মাণ বিপর্যয়। একটি চারতলা ফ্ল্যাটবাড়ি হেলে পড়ার ঘটনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সৌভাগ্যক্রমে, বাড়িটির বাসিন্দারা তখন ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন না, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই বাড়ির বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই অন্যত্র সরিয়ে গিয়েছিলেন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলার কারণে।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, বাঘাযতীনের বিদ্যাসাগর কলোনিতে অবস্থিত ওই ফ্ল্যাটবাড়ির নাম ‘শুভ অ্যাপার্টমেন্ট’। বাড়িটি মোট চারতলা, এবং প্রতিটি তলায় দু’টি করে ফ্ল্যাট রয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর থেকে এই ফ্ল্যাটবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করেন প্রোমোটার। বাসিন্দারা নিরাপত্তার কারণে পাশের ভাড়াবাড়িতে উঠে গিয়েছিলেন। শনিবার দুপুরে একটি বিকট আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা দেখতে পান বাড়িটি একদিকে হেলে পড়েছে।
বাসিন্দাদের মধ্যে একজন, শিউলি বক্সী, জানান, “লিফ্টিংয়ের কাজ শুরু হওয়ার পরে আমরা ভাড়াবাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ এক প্রতিবেশী ফোন করে বললেন, তোমাদের ফ্ল্যাট থেকে শব্দ হচ্ছে। গিয়ে দেখি, পুরো বাড়ি একদিকে কাত হয়ে গেছে।”

পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা দল। উপস্থিত হন কলকাতা পুরসভার আবাসন বিভাগের আধিকারিকরা। যাদবপুরের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার এবং স্থানীয় কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন।
কেন এমনটা ঘটল?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটবাড়িটি নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়নি। যেখানে তিনতলা ভবনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে চারতলা ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছিল। বাড়িটির নির্মাণকাল প্রায় ১০-১২ বছর আগের। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। পুর কর্তৃপক্ষ সেই সময় বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছিল। অভিযোগ, কিছু বাসিন্দা ফের সেই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
যাদবপুরের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার বলেন, “ফ্ল্যাটবাড়ির কর্তৃপক্ষ হরিয়ানার একটি সংস্থার সাহায্যে বাড়িটি ‘লিফ্ট’ করার চেষ্টা করছিলেন। তবে এই ধরনের কাজ করার আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া জরুরি। কিন্তু সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি।”
অতীতের স্মৃতি উস্কে দিল এই ঘটনা
বাঘাযতীনের এই ঘটনা অনেকের মনে গার্ডেনরিচের নির্মাণ বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। গত বছর ১৭ মার্চ মাঝরাতে গার্ডেনরিচে একটি বেআইনি নির্মীয়মাণ বাড়ি ভেঙে পড়েছিল। সেই ঘটনায় ১৩ জন প্রাণ হারান। তদন্তে জানা যায়, ওই বাড়ির নির্মাণ কাজ বেআইনি ছিল এবং নির্মাণ তদারকিতে গাফিলতি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তিনজন ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করেছিল পুরসভা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ
এই ঘটনার পর বাঘাযতীনের আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, এত বড় গাফিলতির পরেও প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? তাদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
উপসংহার
বাঘাযতীনের এই ফ্ল্যাটবাড়ি হেলে পড়ার ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, বেআইনি নির্মাণ এবং তদারকির অভাব কীভাবে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যদিও এই ঘটনায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এটি ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোধ করার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রশাসন এবং বাসিন্দাদের একসঙ্গে সচেতন হতে হবে, যাতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।
সত্যিকারের সাধ্বী নাকি শুধুই লোকদেখানো! নেটপ্রভাবী হর্ষা রিচারিয়া নিয়ে কেন এত বিতর্ক?