প্রীতীশ নন্দী
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাংবাদিক প্রীতীশ নন্দী আর আমাদের মধ্যে নেই। বুধবার মুম্বইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগতে।
প্রীতীশ নন্দী একাধারে ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংবাদিক এবং একজন রাজনীতিবিদ। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা ভারতীয় সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে। শিবসেনার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং কীর্তি তাঁকে এক অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।
অভিনেতা অনুপম খেরের শোকবার্তা
বন্ধুর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে অভিনেতা অনুপম খের সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন,
“আমার খুব কাছের বন্ধুর মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। প্রীতীশ ছিলেন অসাধারণ কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং একজন সাহসী সাংবাদিক। মুম্বইয়ে আমার শুরুর দিনগুলিতে তিনি আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আমাদের মধ্যে অনেক মিল ছিল। তিনি আমার বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। যদিও শেষের দিকে আমাদের খুব বেশি দেখা হয়নি, কিন্তু একটা সময় ছিল যখন আমরা অবিচ্ছেদ্য ছিলাম।”
চলচ্চিত্র ও সাহিত্যজগতে প্রীতীশ নন্দীর অবদান
প্রীতীশ নন্দী চলচ্চিত্রের জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে একাধিক জনপ্রিয় ছবি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- ‘সুর’
- ‘কাঁটে’
- ‘ঝংকার বিটস্’
- ‘চামেলি’
- ‘হাজারো খোয়াইশে এইসি’
- ‘পেয়ার কে সাইড এফেক্টস্’
এছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ফোর মোর শটস্ প্লিজ়’-এর প্রযোজনাও তাঁর সংস্থার হাত ধরে হয়েছে। এই চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজগুলি প্রীতীশ নন্দীর সৃজনশীলতার প্রতিফলন।
রাজনৈতিক জীবন
প্রীতীশ নন্দী মহারাষ্ট্র থেকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। শিবসেনার হয়ে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। যদিও তখন শিবসেনায় বিভাজন আসেনি। রাজনীতিতে তাঁর আনাগোনা প্রমাণ করে, তিনি শুধুমাত্র শিল্প বা সাংবাদিকতায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁর চিন্তাধারা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবন ও উত্তরাধিকার
প্রীতীশ নন্দী কেবল একজন কবি বা নির্মাতা ছিলেন না, তিনি একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টিশীল কাজ এবং সাহসী সাংবাদিকতার জন্য তিনি সমাদৃত হয়েছেন। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।
প্রীতীশের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অনুরাগীদের হৃদয়ে গভীর শোকের সঞ্চার হয়েছে। তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছেন, তা ভারতীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় থাকবে।
শেষকথা
প্রীতীশ নন্দী ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর প্রতিভা ও কর্মক্ষেত্রের মাধ্যমে বহু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া শুধু সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগতের জন্য নয়, বরং সমগ্র ভারতের সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কাজ এবং অবদান তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
‘সত্যি সামনে আসবেই’: যুজবেন্দ্র চহাল এবং ধনশ্রী বর্মার বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনার মাঝে ধনশ্রীর পোস্ট