চিনের পর হংকংয়ে হানা দিল এইচএমপিভি! আতঙ্ক না ছড়িয়ে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ কেরলের

করোনাভাইরাসের পর নতুন একটি ভাইরাসের উদ্ভব ঘটেছে চিনে, যা এখন আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসটির নাম হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি)। যদিও চিনে এই ভাইরাস নিয়ে সরকারী পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত…

January 5, 2025
1 min read

করোনাভাইরাসের পর নতুন একটি ভাইরাসের উদ্ভব ঘটেছে চিনে, যা এখন আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসটির নাম হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি)। যদিও চিনে এই ভাইরাস নিয়ে সরকারী পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রতিবেশী দেশ হংকং-এ এই ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং কেরল স্বাস্থ্য মন্ত্রক আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করছে।

‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এইচএমপিভি নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে, স্বাস্থ্য মন্ত্রক পূর্ববর্তী প্রস্তুতি হিসেবে জনসাধারণকে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষত বয়স্ক এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বাইরে কিংবা জনবহুল এলাকায় বেরোনোর সময়।

এইচএমপিভি

এইচএমপিভি! আতঙ্ক না ছড়িয়ে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ কেরলের

এই ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে আরও জানার জন্য, বিজ্ঞানীরা জানান যে এই ভাইরাস করোনাভাইরাসের মতোই শ্বাসনালি ও শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে। তবে এটি করোনা ভাইরাসের মতো অতটা বিস্তার লাভ করেনি। আমেরিকার ‘সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল’ (সিডিসি) এবং ভারতের ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভাইরাসটি সাধারণত হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমানে দুটি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে—‘এইচএমপিভি-এ’ ও ‘এইচএমপিভি-বি’, যাদের আরও চারটি উপপ্রজাতি রয়েছে, যেমন এ১, এ২, বি১ এবং বি২। তবে চিনে এই ভাইরাসের কোন প্রজাতি ছড়িয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত: ১) সাবান এবং জল দিয়ে হাত ধুতে হবে, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে এবং চোখে-মুখে হাত দেওয়ার আগে। ২) জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলা উচিত এবং বাইরে বেরোনোর আগে মাস্ক পরতে হবে। ৩) সর্দি বা জ্বরের মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এইচএমপিভি এবং কোভিড-১৯ ভাইরাসের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে, যদিও এদের উৎস আলাদা। যেমন: ১) করোনা এবং এইচএমপিভি— দু’টি ভাইরাসই শ্বাসনালি ও শ্বাসযন্ত্রে প্রভাব ফেলে। ২) দুই ভাইরাসই ছোঁয়াচে এবং সংক্রামিত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে পারে। ৩) কোভিড-১৯-এ যেমন প্রথমে জ্বর, হাঁচি ও গলায় ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায়, তেমনি এইচএমপিভি-র ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম লক্ষণ দেখা যায়। ৪) দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যুক্ত ব্যক্তি, বয়স্ক বা শিশুদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।

চিন এবং হংকংয়ের পরিস্থিতি লক্ষ্য রেখে ভারতের স্বাস্থ্য অধিকারীরা সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, এবং কেরল রাজ্যও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।

ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করায় ইউজবেন্দ্র চাহাল ও ধনশ্রী সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি, বিচ্ছেদের গুঞ্জন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *