পঞ্জাবে কৃষকদের বন্‌ধ: ২২১টি ট্রেন বাতিল, রাস্তায় অবরোধ, যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা

পঞ্জাবে কৃষকদের বন্‌ধ পঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্তে সোমবার কৃষকদের ডাকা বন্‌ধের কারণে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি না হওয়া এবং তাদের দাবি উপেক্ষা করায় কৃষক সংগঠনগুলো এই…

December 30, 2024
1 min read

পঞ্জাবে কৃষকদের বন্‌ধ

পঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্তে সোমবার কৃষকদের ডাকা বন্‌ধের কারণে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি না হওয়া এবং তাদের দাবি উপেক্ষা করায় কৃষক সংগঠনগুলো এই বন্‌ধের আয়োজন করে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (অরাজনৈতিক) এবং কিষাণ মজদুর মোর্চার ডাকে এই বন্‌ধ পালিত হয়। এতে ২২১টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বিক্ষোভ ও বন্‌ধের পরিপ্রেক্ষিত

কৃষকদের বহুদিনের দাবিদাওয়ার মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) নির্ধারণ, কৃষি ঋণ মকুব, পেনশনের ব্যবস্থা, এবং বিদ্যুতের বিল না-বাড়ানোর মতো বিষয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে পঞ্জাব এবং হরিয়ানার বিভিন্ন সীমানায় বিক্ষোভরত কৃষকেরা কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

২৬ নভেম্বর কৃষক নেতা জগজিৎ সিংহ ডাল্লেওয়াল আমরণ অনশন শুরু করেন, যা আন্দোলনকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক নেতারা। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই বন্‌ধের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

পঞ্জাব জুড়ে বন্‌ধের প্রভাব

সোমবার সকাল থেকেই পঞ্জাবের বিভিন্ন জায়গায় কৃষকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। তারা জলন্ধর-দিল্লি জাতীয় সড়ক, অমৃতসর-দিল্লি হাইওয়ে, এবং মোহালিতে বিমানবন্দর যাওয়ার রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে এসব রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

যদিও জরুরি পরিষেবায় ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবুও সাধারণ যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। কৃষক নেতা সরওয়ান সিংহ পন্ধের জানিয়েছেন, বিশেষ প্রয়োজনীয়তা যেমন চাকরির সাক্ষাৎকার বা চিকিৎসার জন্য কেউ রাস্তায় বেরোলে তাদের বাধা দেওয়া হবে না।

পুলিশি তৎপরতা

বন্‌ধের কারণে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। মোহালিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৬০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পুলিশের সঙ্গে কৃষক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

কৃষকরা অভিযোগ করছেন যে কেন্দ্র তাদের দাবি মেনে নেওয়া তো দূরে, আলোচনায় বসতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কেন্দ্রের অবহেলার কারণেই তারা রেল রোকো থেকে বন্‌ধের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

বন্‌ধের পরবর্তী পরিকল্পনা

বন্‌ধের পর কৃষকরা তাদের আন্দোলন আরও তীব্র করার পরিকল্পনা করছেন। কৃষি আইন বাতিলের আন্দোলনের মতো এই আন্দোলনকেও দীর্ঘস্থায়ী করতে চান তারা। কৃষক সংগঠনগুলো মনে করে, সরকারের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করলে তবেই তাদের দাবি পূরণ হবে।

অর্থনীতি ও পরিবহণে প্রভাব

বন্‌ধের কারণে পরিবহণ এবং অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। ট্রেন বাতিলের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে। পাশাপাশি, পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। কৃষকদের এই কর্মসূচি কেবল রাজ্যের ভিতরেই নয়, আশেপাশের রাজ্যগুলোতেও সাড়া ফেলেছে।

উপসংহার

পঞ্জাবের কৃষকদের এই আন্দোলন কেবল তাদের নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়, এটি কৃষিক্ষেত্রের সংকট এবং সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। কৃষকদের দাবি যদি মেনে নেওয়া না হয়, তবে এই আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং দ্রুত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। তা না হলে, এই বিক্ষোভের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক পরিবহণ এবং অর্থনীতিতে বিপর্যয় আনতে পারে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *