গুলির ১০ গুণ গতিতে ছুটে মহাশূন্যে ঘটবে মহামিলন! মহাকাশে ‘দাদাগিরি’র পথে আরও এগোল ইসরো

মহাকাশে দু’টি কৃত্রিম উপগ্রহের মহামিলন: ইসরোর ‘স্পাডেক্স’ মিশনের পথে আরও এক ধাপ এগোনোর স্বপ্ন মহাশূন্যে একটি রাইফেলের গুলির ১০ গুণ গতিতে ভেসে বেড়াচ্ছে দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ। তাদের মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ…

December 28, 2024
1 min read

মহাকাশে দু’টি কৃত্রিম উপগ্রহের মহামিলন: ইসরোর ‘স্পাডেক্স’ মিশনের পথে আরও এক ধাপ এগোনোর স্বপ্ন

মহাশূন্যে একটি রাইফেলের গুলির ১০ গুণ গতিতে ভেসে বেড়াচ্ছে দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ। তাদের মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মহাকাশযান তৈরির পরিকল্পনায় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো বছরশেষে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিতে চলেছে। ইসরোর এই সাহসী প্রয়াস বিশ্বে মহাকাশ প্রযুক্তিতে ভারতের আধিপত্যের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি।

ইসরোর স্পাডেক্স মিশনের সূচনা

ইসরোর এই বিশেষ মিশনের নাম ‘স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট মিশন’ বা সংক্ষেপে ‘স্পাডেক্স’। ৩০ ডিসেম্বর পৃথিবীর কক্ষপথে দু’টি কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন এবং তাদের ডকিং এবং আনডকিং প্রক্রিয়ার পরীক্ষা চালানো হবে। এই মিশন সফল হলে, ভারত হবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ, যারা এই উন্নত প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে এই প্রযুক্তি কেবল আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীনের কাছে রয়েছে।

ডকিং প্রযুক্তির তাৎপর্য

মহাশূন্যে ঘূর্ণায়মান দু’টি বস্তুকে কাছাকাছি এনে যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘ডকিং’। এটি একটি অত্যন্ত জটিল এবং সূক্ষ্ম প্রযুক্তি। ইসরো জানিয়েছে, পৃথিবীর ৪৭০ কিলোমিটার উপরে এই পরীক্ষা চলবে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বিশেষ ‘ভারতীয় ডকিং সিস্টেম’ ব্যবহার করে এটি সম্পন্ন করবেন।

উপগ্রহ ও পরীক্ষার বিশদ বিবরণ

ইসরোর রকেট ‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ (পিএসএলভি)-এর মাধ্যমে দু’টি ২২০ কেজি ওজনের কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। তাদের নাম রাখা হয়েছে ‘চেজ়ার’ এবং ‘টার্গেট’। ডকিংয়ের সময় উপগ্রহগুলির আপেক্ষিক গতি নিয়ন্ত্রণ করে ০.০৩৬ কিমি/ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হবে। মিলিত অবস্থায় তাদের গতি হবে প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিলিমিটার।

পরীক্ষার বিশেষ দিক

ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ জানিয়েছেন, এই পরীক্ষা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে নির্ধারিত কক্ষপথে রাখতে এবং মিলনের সময় তাদের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে পদার্থবিদ্যার জটিল হিসাবের প্রয়োজন। পরীক্ষার সফলতার মাধ্যমে মহাকাশ স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে ভারতের বড়সড় সাফল্য আসবে।

অতীত ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে পাঁচটি দেশ মিলে তৈরি করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। সেই পথ ধরে এবার ইসরোও তৈরি করতে চায় নিজস্ব ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’। স্পাডেক্স মিশনের সফলতা এই লক্ষ্য পূরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চন্দ্রযান ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ পরিকল্পনা

ইসরো জানিয়েছে, চন্দ্রযান-৪ মিশনেও এই ডকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। চাঁদে নভোচারী পাঠানোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অপরিহার্য। এছাড়া, ভবিষ্যতে ভারতের গগনযান মিশনেও এই প্রযুক্তির প্রয়োগ হবে।

বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা

এই মিশনে বেঙ্গালুরুর ‘অনন্ত টেকনোলজিস’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসরোর সঙ্গে তাদের এই সহযোগিতাকে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ব মহাকাশ প্রতিযোগিতায় ভারতের স্থান

নাসা, রসকসমস এবং চীনের সিএনএসএর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসরো অতি অল্প খরচে মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের প্রমাণ করছে। স্পাডেক্স মিশনের সফলতা ভারতের মহাকাশ গবেষণাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

উত্তেজনার প্রতীক্ষা

৩০ ডিসেম্বরের পরীক্ষার পরেই নতুন বছরের শুরুতে ইসরো এই প্রযুক্তির সফলতার ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের এই অগ্রগতি প্রতিটি ভারতীয়কে গর্বিত করবে।

মহাকাশে ‘দাদাগিরি’র পথে ইসরোর এই অভূতপূর্ব প্রয়াসকে ঘিরে চমকের অপেক্ষায় পুরো দেশ।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *