উচ্চ প্রাথমিকে তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং
উচ্চ প্রাথমিকে দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং শেষে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকে ১৯৭১ জন সুপারিশপত্র গ্রহণ করেছেন। তবে, কাউন্সেলিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং সুপারিশপত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন মোট ৬২৪ জন প্রার্থী। স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সূত্রে জানা গেছে, এই দফায় মোট ২৫৯৫ জন প্রার্থীর কাউন্সেলিং হওয়ার কথা ছিল।
দ্বিতীয় দফার পরিসংখ্যান:
প্রথম দফায় কাউন্সেলিং হয় ৮৭৪৯ জনের, যেখানে ৬৬৮০ জন প্রার্থী সুপারিশপত্র গ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় ১৯৭১ জন প্রার্থী সুপারিশপত্র গ্রহণ করেন। এই দুই দফায় মোট ৮৬৫১ জন প্রার্থী নিয়োগের জন্য সুপারিশপত্র পেয়েছেন।
তবে মেধা তালিকা অনুযায়ী এখনও কাউন্সেলিং বাকি রয়েছে ২৬১২ জন প্রার্থীর। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘‘আমরা চাই তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং একবারেই সম্পন্ন করা হোক।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিংয়ে অনুপস্থিত এবং সুপারিশপত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন যাঁরা, তাঁদের অনুপস্থিতির ফলে নতুন শূন্য পদ তৈরি হয়েছে। তাই অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা সকল প্রার্থীর দ্রুত কাউন্সেলিং করা সম্ভব।’’
তৃতীয় দফার দাবি:
চাকরিপ্রার্থীরা জানাচ্ছেন, তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই করা উচিত। আদালতের নির্দেশ রয়েছে যে মেধা তালিকায় থাকা সমস্ত প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘‘মেধা তালিকার ভিত্তিতে কাউন্সেলিং হলে প্রতিটি প্রার্থী যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন। আমরা এসএসসি এবং শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদন জানিয়েছি দ্রুত তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং শুরু করার জন্য।’’
শিক্ষা দফতরের প্রস্তুতি:
যদিও চাকরিপ্রার্থীরা দ্রুত তৃতীয় দফার দাবি জানাচ্ছেন, শিক্ষা দফতর এখনও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি। দফতরের এক কর্তা জানান, ‘‘এসএসসি সমস্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তৃতীয় দফার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সমস্ত শূন্য পদ পূরণের জন্য মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’’
অপেক্ষার চাপ:
চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফা শেষ হলেও তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং দ্রুত করা প্রয়োজন। দেরি হলে চাকরিপ্রার্থীদের মানসিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।’’
এখন দেখা যাচ্ছে, উচ্চ প্রাথমিকে তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং একবারেই করা হলে মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং দ্রুত হবে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত তারিখ এখন চাকরিপ্রার্থীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।