কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ধর্ষণ ও খুন মামলায় সন্দীপ ঘোষ এবং অভিজিৎ মণ্ডলের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এবং ইডির ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। একই দিনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিন পাওয়ায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ঘটনা রাজনৈতিক “সেটিং”-এর উদাহরণ এবং এতে তদন্তকারী সংস্থাগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “গত দশ বছর ধরে আমরা বলে আসছি, তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে গোপন বোঝাপড়া রয়েছে। আজ সেটি প্রমাণিত হচ্ছে। তৃণমূল এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের এই আঁতাঁত সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা তৃণমূল সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “সকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং বিকেলে সন্দীপ ঘোষ জামিন পেয়ে গেলেন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সিবিআই এবং ইডির মতো সংস্থার ওপর কীভাবে ভরসা রাখবেন? এটা স্পষ্ট যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো দিল্লির বিজেপি এবং তৃণমূলের বোঝাপড়ার শিকার। আমরা জানতাম যে তৃণমূলের অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু আমাদের লড়াই থামবে না। ‘তিলোত্তমা ভেবো না, সেটিং হতে দেব না’—এই স্লোগান নিয়ে আমরা নতুন উদ্যমে আন্দোলন শুরু করব।”
“রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে”—বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য
সিপিএম নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে আরও তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, সন্দীপ ঘোষ এবং অভিজিৎ মণ্ডলের জামিন নিশ্চিত করার জন্যই সিবিআই ইচ্ছাকৃতভাবে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেয়নি। আইন অনুযায়ী, এই সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট জমা না দিলে অভিযুক্তরা স্বাভাবিকভাবেই জামিন পেয়ে যাবেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল কি না, সেটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারব না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখে মনে হচ্ছে, এর পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। সিবিআই ইচ্ছাকৃতভাবে চার্জশিট জমা দিতে দেরি করেছে।”
কেন্দ্রীয় সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
তদন্তে দেরি হওয়া এবং জামিন পাওয়ার ঘটনা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। সিপিএম নেতারা মনে করেন, সিবিআই এবং ইডির ভূমিকা রাজনৈতিক চাপে প্রভাবিত হচ্ছে। আদালতে চার্জশিট জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে জামিন নিশ্চিত করার ঘটনা তদন্তকারী সংস্থার স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিরোধীদের আহ্বান
সিপিএম নেতারা বলেন, “আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, আমরা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছি। তৃণমূল এবং বিজেপির এই বোঝাপড়াকে আমরা কখনওই সফল হতে দেব না।”
আন্দোলনের নতুন দিশা
আর জি কর মেডিক্যাল মামলায় নিহত তরুণীর পরিবার এবং সাধারণ মানুষদের পক্ষে দাঁড়িয়ে বিরোধীরা নতুন আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে। তাদের বক্তব্য, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না। “তিলোত্তমা ভেবো না, সেটিং হতে দেব না”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শেষ কথা
তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তথাকথিত বোঝাপড়ার অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা এনেছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে আরও নিরপেক্ষ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।