বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা সংখ্যা বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা জাগিয়েছে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রীর সাম্প্রতিক ঢাকা সফর। সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এদিন মিস্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন। পরে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গেও।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভিসা নিয়ে আলোচনাও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের জানান, “বিক্রম মিস্রী বাংলাদেশিদের ভিসা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।” এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে উভয় দেশই পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ভিসা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে চিকিৎসা, জরুরি প্রয়োজন এবং অন্যান্য ভিসার সীমিত প্রাপ্যতা গত কিছুদিন ধরে আলোচনায় ছিল। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সময় সাময়িকভাবে ভিসা প্রদান বন্ধ হলেও, কিছুদিন পর পুনরায় তা চালু করা হয়। তবে এখনো পূর্ণমাত্রায় ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়নি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সেপ্টেম্বর মাসে জানান যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে।
বাংলাদেশের অনেক নাগরিক চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে ভারতের ভিসার ওপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকারের পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশের জনগণ।
ইউনূসের ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রস্তাব
বিক্রম মিস্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি ভিসা ইস্যু তুলে ধরেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিকে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র দিল্লি থেকে সরিয়ে ঢাকা বা অন্য প্রতিবেশী দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াতে সহজতর পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
ভবিষ্যতের দিকে নজর
এই বৈঠকগুলি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের সহযোগিতার এই প্রয়াস কেবলমাত্র ভ্রমণ বা চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আশাবাদী যে, ভারতের ভিসা নীতি শিগগিরই আরও নমনীয় হবে। এটি বাংলাদেশিদের জন্য শুধু ভ্রমণ নয়, বরং চিকিৎসা, শিক্ষা এবং ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।