অশ্লীল মেসেজ
কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ‘অশ্লীল মেসেজ’ পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে এই শিক্ষক নির্দিষ্ট ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করছিলেন, কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথমে এর বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। অবশেষে, বৃহস্পতিবার কলেজে ব্যাপক বিক্ষোভের পর ওই শিক্ষককে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষ এবং সহকারী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ইস্তফার দাবিও তোলা হয়েছে। ছাত্রীরা অভিযোগ করেছে যে, তারা এই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষ ওই অভিযোগের উপর কোনও গুরুত্ব দেয়নি এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্রীরা জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষক গত কয়েক মাস ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। নির্যাতিতার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায়, সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে, বিনিময়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ওই ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করতে চেয়েছিলেন এবং তাকে বিভিন্ন অশ্লীল মেসেজ পাঠাতেন।
এছাড়া, আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে এই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিশেষত, যেসব ছাত্রীরা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের ওপর তিনি নির্যাতন চালাতেন। ছাত্রীরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষক যৌন প্রস্তাব দিতেন এবং তাদের বাধা দিলে তাদের ভবিষ্যত নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এমনকি, এই বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও, কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গত জুলাই মাসে নির্যাতিতার পক্ষ থেকে কলেজের অধ্যক্ষ মধুমঞ্জরী মণ্ডল এবং সহকারী অধ্যক্ষ সুপ্রতিম দাসের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তবে, অভিযোগকারিণীকে সাহায্য করার পরিবর্তে, তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে অভিযোগ দায়ের করতে বাধা দেন এবং কোনও পদক্ষেপ নেননি। অভিযোগ করা হয় যে, কলেজের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত, একাধিক অধ্যাপকের চাপের পর, কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর অভিযোগ গ্রহণ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
বৃহস্পতিবার, কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত শিক্ষককে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, এই সাসপেনশন তখন পর্যন্ত বহাল থাকবে, যতক্ষণ না পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, এই পদক্ষেপের পরও শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট নয়। তারা অভিযোগ করছে যে, এই পুরো বিষয়টি যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করা হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা যথেষ্ট ছিল না।
এই ঘটনায় স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষ এবং সহকারী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রীরা তাঁদের ইস্তফার দাবিও তুলেছে। তাদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রী এবং অন্য যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রতি যথাযথ সমর্থন প্রদান করেনি এবং তারা বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই পরিস্থিতি কলেজের প্রতি ছাত্রদের আস্থা নষ্ট করেছে এবং অনেকেই এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নীতির প্রতি সন্দিহান হয়ে পড়েছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে নৈতিকতার প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। এটি কেবল একটি একক ঘটনাই নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী নিরাপত্তা ও তাদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্বের বিষয়ে একটি বড় সঙ্কটের দিকে ইঙ্গিত করছে।