কলকাতার পারদ
ডিসেম্বর শুরু হলেও কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে এখনও শীতের প্রকৃত আমেজ পুরোপুরি আসেনি। সোমবার, ২ ডিসেম্বর, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৪ ডিগ্রি বেশি। তবে হালকা শীতের ছোঁয়া ইতিমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে, এবং শিগগিরই পারদ আরও কমার ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
তাপমাত্রার বর্তমান চিত্র
রবিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সোমবার এক ডিগ্রি বেড়ে ২০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। যদিও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৩ ডিগ্রি কম।
আবহবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন এখনই হবে না। চলতি সপ্তাহে আরও দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা একই রকম থাকবে। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে পারদ ২-৩ ডিগ্রি নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীত আসতে দেরি কেন?
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়টি মূলত তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির উপকূলে আছড়ে পড়লেও এর প্রভাব পরোক্ষভাবে কলকাতার আকাশে মেঘের আস্তরণ তৈরি করেছিল। সেইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। শনিবারের পর রবিবার রাতেও কলকাতা ও শহরতলির কিছু অংশে হালকা বৃষ্টি হয়।
তবে বর্তমানে নিম্নচাপের মেঘ কেটে যাওয়ায় শীতের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত রাজ্যের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক।
কুয়াশার সম্ভাবনা
দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকা, যেমন পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, ও বীরভূমে এবং উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে কুয়াশার কারণে সমস্যা হতে পারে। এই অঞ্চলে ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে।
শীতের জন্য অপেক্ষা
আবহবিদরা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহের শেষে তাপমাত্রা আরও কমবে। বিশেষ করে কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শীতের আমেজ পুরোপুরি অনুভূত হতে পারে।
শীতের আগমনের পূর্বাভাস
গত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে শীত আসতে দেরি হলেও মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পারদ দ্রুত নামতে শুরু করে। এই বছরও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই সপ্তাহের পরবর্তী অংশে শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে।
উপসংহার
এখনই হয়তো চাদর-কম্বলের প্রয়োজন অনুভূত না হলেও, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ঠান্ডার প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গবাসী শীতের এই বিলম্বিত আগমনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন, কারণ শীতকালের হালকা ঠান্ডা আর মিষ্টি পরিবেশ অনেকের কাছে বছরের সবচেয়ে উপভোগ্য সময়।