আদানির ভাইপোর ঘুষকাণ্ড: নতুন তদন্তে চাপে শিল্পগোষ্ঠী

আদানির ভাইপোর ঘুষকাণ্ড ভারতের অন্যতম ধনী শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানির বিরুদ্ধে নতুন করে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তরফে সাগর আদানির…

November 23, 2024
1 min read

আদানির ভাইপোর ঘুষকাণ্ড

ভারতের অন্যতম ধনী শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানির বিরুদ্ধে নতুন করে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তরফে সাগর আদানির বিরুদ্ধে এর আগেও তদন্ত হয়েছে। এবার সোলার এনার্জি প্রজেক্টের বরাত পাওয়ার জন্য ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের নাম জড়িয়েছে।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলির সঙ্গে একটি বড় মাপের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি পেতে গৌতম আদানি, তাঁর ভাইপো সাগর এবং আরও কয়েকজন ২২৩৭ কোটি টাকারও বেশি ঘুষ দিয়েছেন। মার্কিন তদন্ত সংস্থার দাবি, এই প্রকল্প থেকে আগামী ২০ বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলার লাভের আশায় তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

ঘুষের টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল আমেরিকার বাজার থেকে বিনিয়োগের নামে। মার্কিন ‘সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (SEC)-এর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, আদানি গোষ্ঠী বিনিয়োগকারীদের ভুল তথ্য দিয়ে এই টাকা সংগ্রহ করেছে।

অভিযুক্তদের নাম

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে সাগর আদানি-সহ মোট আট জনের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের সিইও বিনীত জৈন, আজ়ুর পাওয়ারের রঞ্জিত গুপ্ত এবং অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের নাগরিক। এছাড়াও দীপক মলহোত্র এবং সৌরভ আগরওয়ালের নামও তালিকায় রয়েছে।

সাগর আদানি কে?

গৌতম আদানির ভাইপো সাগর আদানি বর্তমানে ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’র এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক। ২০১৫ সালে আদানি গোষ্ঠীতে যোগদান করেন এবং সৌর ও বায়ুশক্তি প্রকল্প বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এফবিআইয়ের তদন্ত

২০২৩ সালের মার্চ মাসে এফবিআই সাগর আদানির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান পরোয়ানা জারি করে। তদন্তকারীরা তাঁর ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেন এবং ঘুষের লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন। অভিযোগ, সাগর তাঁর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘুষের বিষয়ে তথ্য আদানপ্রদান করতেন।

অর্থনৈতিক প্রভাব

এই অভিযোগের জেরে আদানি গোষ্ঠী আবারও চাপে পড়েছে। শেয়ার বাজারে তাঁদের সংস্থার শেয়ারের দাম হু হু করে কমছে। এর আগে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের পরেও আদানি গোষ্ঠী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল।

মার্কিন আদালতের নির্দেশ

নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালত গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযোগ, তাঁরা ‘সিকিউরিটিজ ফ্রড’, ‘ওয়্যার ফ্রড কনস্পিরেসি’ এবং বিদেশি ঘুষ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্রে জড়িত।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

এই কেলেঙ্কারি আদানি গোষ্ঠীর উপর নতুন করে একটি কালো ছায়া ফেলেছে। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ আদানি গোষ্ঠীর বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে বিপাকে ফেলতে পারে। যদিও আদানি গোষ্ঠী এই অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনত প্রতিরোধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উপসংহার

বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব শক্তি প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠীর বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এই ধরনের ঘুষ কেলেঙ্কারি শুধু তাঁদের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করবে না, বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কট তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তাঁরা এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসেন।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *