এআর রহমান ও সায়রা
১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে সুরকার এআর রহমান ও সায়রা বানুর বিয়ে হয়। তাদের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল সম্বন্ধের মাধ্যমে, প্রেমের মাধ্যমে নয়। সায়রার সাথে এআর রহমানের বিয়ে হয়েছিল পরিবারের পছন্দে, যার মাধ্যমে তাঁদের ২৯ বছরের দীর্ঘ সংসার জীবন শুরু হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তাঁদের দুই কন্যা এবং এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়, যারা সকলেই সঙ্গীতের জগতে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।
এআর রহমান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি আগে কখনোই বিয়ের ব্যাপারে ভাবেননি। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর প্রেম এবং নিবেদন তাঁকে প্রেম ও বিয়ের মতো বিষয়গুলোর প্রতি উদাসীন করে রেখেছিল। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মায়ের পছন্দেই সায়রা ছিলেন। আমি তখন সঙ্গীতের কাজে ব্যস্ত ছিলাম, প্রেম বা বিয়ে নিয়ে কোনো চিন্তা ছিল না।’’ কিন্তু ২৭ বছর বয়সে তাঁর চিন্তাধারা পরিবর্তিত হয়, এবং তখন তাঁর মা সায়রার জন্য পাত্র হিসেবে নির্বাচন করেন।
রহমানের মা সায়রাকে প্রথমবার একটি সুফি সাধক মত্তি বাবার দরগায় দেখেছিলেন। শোনা যায়, প্রথমে সায়রার বোনকে পছন্দ করলেও পরবর্তীতে সায়রাকেই পছন্দ করেন রহমানের মা। ১৯৯৫ সালের ৬ জানুয়ারি, যখন রহমান ২৮ বছরে পা দেন, সায়রার সাথে তাঁর প্রথম দেখা হয়। এরপর মাত্র দু’মাসের আলাপের পর মার্চে তাঁদের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের দিনটিতে সায়রা ছিলেন শান্ত, কিন্তু বিয়ের পর তিনি কিছুটা বদলে যান বলে রহমান মন্তব্য করেছিলেন।
মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে সায়রা ও রহমান পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। এক রাতের কথা মনে করে অভিনেতা রাশিন রহমান বলেছেন, ‘‘ওরা দু’জনে আলাদা ঘরে ছিলেন। রহমান বীণা বাজিয়ে সুর তৈরি করছিলেন, আর সায়রা ঘুমাচ্ছিলেন।’’ একসময়, রহমানের পরিবার এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল, তবে প্রথম সন্তানের জন্মের পর সেসব সমস্যা ধীরে ধীরে মিটে যায়।
তবে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে, সায়রা ও রহমান বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের বিবাহিত জীবনের ২৯ বছর পর এই কঠিন সিদ্ধান্ত এসেছে। তারা একে অপরকে ভালোবাসতেন, তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা মানসিক দূরত্বের কারণে তাদের সম্পর্কের এই অবসান ঘটে। তাঁদের সন্তানরা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই কঠিন পরিস্থিতি সম্মান জানিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে অনুরোধ করেছেন।
বিচ্ছেদের ঘোষণা করার পর, রহমান এবং সায়রা সোশ্যাল মিডিয়াতে সকলকে তাদের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।