কসবায় তৃণমূল কাউন্সিলরকে গুলি
দক্ষিণ কলকাতার কসবায় এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করা হয়, তবে ভাগ্যক্রমে বন্দুক কাজ না-করায় তার প্রাণ রক্ষা পায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। এক যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও, অন্য এক যুবক পালিয়ে যায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনাটির পেছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে বসে ছিলেন। তখন দু’জন যুবক স্কুটারে করে এসে সুশান্তের সামনে স্কুটার দাঁড় করান। এক যুবক স্কুটারের পিছনের সিট থেকে নেমে পকেট থেকে বন্দুক বের করে সুশান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বন্দুক ‘লক’ হয়ে যাওয়ায় প্রথম চেষ্টায় গুলি বার হতে পারেনি। এরপর তিনি অন্য বন্দুক বের করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন, তবে তাও ব্যর্থ হয়। এই সুযোগে পালানোর চেষ্টা করেন যুবকরা, কিন্তু সুশান্ত এবং তার সঙ্গীরা তাদের তাড়া করেন। এক যুবককে ধরে ফেলেন তারা এবং তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে অপর যুবকটি পলাতক।
সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সেখানে দেখা যায়, সুশান্ত বুঝতে পারার পর প্রথমে লাথি দিয়ে অভিযুক্তকে প্রতিরোধ করেন। এরপর নিজে ছুটে গিয়ে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন এবং তার অনুগামীরা তাকে সাহায্য করে। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর জানা যায়, ধৃত যুবকটি ভিন্রাজ্যের বাসিন্দা। তবে, ঘটনার পেছনে আর কী কারণে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। সুশান্ত নিজে বলেন, “কলকাতা পুলিশ দক্ষভাবে কাজ করবে এবং আমি বিশ্বাস করি, মাস্টারমাইন্ডকে ধরতে সক্ষম হবে। তবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় কাউকে দায়ী করা ঠিক হবে না।”
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সুশান্তের সমর্থকেরা কসবা এলাকায় পথ অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক জাভেদ খানও উপস্থিত হন। তিনি ঘটনার পরপরই পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
গত কিছুদিন আগে কসবায় ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লিপিকা মান্নার সঙ্গে সুশান্ত ঘোষের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে কিছু উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় কিছু সূত্রের মতে, সুশান্ত এবং লিপিকার মধ্যে পুরনো রাজনৈতিক বিরোধ ছিল এবং তার জেরে অনেক সময় দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা লেগে থাকে। এমনকি, গত মাসে কসবা থানার হালতুতে একটি ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনায় সুশান্তের নাম উঠে আসে। সে সময় তার প্রতিবাদ করায় এক দম্পতিকে মারধর করা হয়। তাই এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক কারণে কোনও হাত রয়েছে কিনা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী সুশান্তকে ফোন করে ঘটনার খোঁজখবর নেন। তিনি সুশান্তের নিরাপত্তা নিয়ে সঙ্গত দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।