মালদহে ‘তরুণের স্বপ্ন’
শিক্ষার্থীদের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের অধীনে, শিক্ষার্থীদের ট্যাব কেনার জন্য ১০,০০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে, চলতি বছরে এই টাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক শিক্ষার্থীই এই টাকা পাননি এবং তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার বদলে তা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। এমনই একটি হ্যাকিং কেলেঙ্কারির ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের উদ্যোগে মালদহ থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মালদহের বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি সাইবার ক্যাফের মালিক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সরকারের বরাদ্দ করা টাকা নিজের নামে তুলে নেওয়া। পুলিশ বলছে, এই যুবকের নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজন এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, এবং তাদের খুঁজতে ইতিমধ্যেই তদন্ত ও তল্লাশি চলছে।
ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ
সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষার্থীদের ট্যাব কেনার জন্য বরাদ্দ টাকা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, অনেকের ট্যাব কেনার টাকা তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে না গিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর এবং মালদহের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছে যে, তারা বরাদ্দকৃত টাকা পাননি।
রাজ্যের শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার এই ব্যাপারে বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, ৩০০-রও বেশি শিক্ষার্থীর ট্যাব কেনার টাকা ভুলভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে গেছে।’’ তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যজুড়ে তদন্ত ও পদক্ষেপ
এই অনিয়মের ঘটনার পর শিক্ষা দফতর নড়েচড়ে বসেছে। তারা রাজ্যের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিদর্শকদের কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে এবং সমস্যার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ এই বিষয়ে নবান্নে এক জরুরি বৈঠক করেন।
তদন্তে জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানে ৮৮ জন, পূর্ব মেদিনীপুরে ৬৫ জন এবং মালদহে ১৪৯ জন শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য টাকা পাননি। কিছু শিক্ষার্থী তাদের বরাদ্দের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা পেয়েছে, আবার অনেকে কোনও টাকা পাননি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে, এবং তারা এই ব্যাপারে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রমাণ
পুলিশ জানিয়েছে যে, গ্রেফতার হওয়া যুবক স্থানীয় একটি সাইবার ক্যাফের মালিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে যে, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো হ্যাক করা হয়েছিল এবং প্রতারণার মাধ্যমে তাদের ট্যাব কেনার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তবে এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য থাকতে পারে, যাদের সনাক্ত করার জন্য পুলিশের তল্লাশি চলছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা ও ভবিষ্যত পদক্ষেপ
শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের প্রতারণার ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের টাকা সঠিকভাবে তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর জন্য আরও সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে এবং কোনও সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
মালদহে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তকে ধরে প্রশাসন এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হচ্ছে এবং রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আরও সজাগ হয়েছে। এই ঘটনাটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে কীভাবে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করা সম্ভব, এবং প্রশাসনও এর থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।