দীপাবলি উদ্যাপন করলেই মৃত্যু নিশ্চিত
দীপাবলি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব, যখন চারপাশে আলো ছড়িয়ে পড়ে, মিষ্টি এবং মুখরোচক খাবারে মুখরিত হয়। কিন্তু হিমাচল প্রদেশের সাম্মো গ্রামে দীপাবলি এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামে বহু বছর ধরে দীপাবলি পালন করা হয় না, কারণ গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, উৎসব পালন করলে তাদের জীবনে নেমে আসে বিপদ— এমনকি মৃত্যু!
সাম্মো গ্রাম হামিরপুর জেলার ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে এক অদ্ভুত অভিশাপ বিরাজমান। গ্রামবাসীদের মতে, এই অভিশাপের সূত্রপাত কয়েকশো বছর আগে, যখন একটি তরুণী দীপাবলি উদ্যাপন করতে বাড়ি থেকে বের হন। যাওয়ার পথে তার কাছে পৌঁছায় তার স্বামীর মৃত্যুর খবর। ওই তরুণী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা এবং স্বামীর মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে তিনি সহমরণের সিদ্ধান্ত নেন। মৃত্যুর আগে গ্রামবাসীদের উদ্দেশে তিনি অভিশাপ দেন— দীপাবলি পালন করলে তার পরিবারে বিপদ আসবে।
এই অভিশাপের ভয়ে গ্রামবাসীরা দীপাবলি উপলক্ষে আলোকসজ্জা এবং বিশেষ খাবার রান্না থেকে বিরত থাকেন। ৭০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধের দাবি, তিনি জন্মের পর থেকে এই গ্রামে দীপাবলি পালন হতে দেখেননি। সাম্মো গ্রামের মহিলাদের মতে, দীপাবলির সময় গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের ঘরে বন্দী থাকেন। উৎসবের কোনো ছিটেফোঁটাও লক্ষ্য করা যায় না।
এদিকে, গ্রামের বেশ কিছু তরুণ প্রজন্ম অভিশাপকে অগ্রাহ্য করে দীপাবলি উদ্যাপনের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তারা দুর্গতির শিকার হন। গ্রামের বাড়ির দরজার সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে তরুণীকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তবে, নাহলে নাকি তার আত্মা রুষ্ট হয়।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, আলো জ্বালানো কিংবা উৎসব পালন করলে বিপদ নেমে আসে। এমনকি গ্রামের বাইরে বসবাসকারী কিছু গ্রামবাসীও একবার দীপাবলির উপলক্ষে বিশেষ খাবার রান্না করেছিলেন। কিন্তু তাদের বাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
গ্রামের কিছু বাসিন্দা এই শতাব্দীপ্রাচীন অভিশাপকে কুসংস্কার বলে উল্লেখ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সেই প্রচেষ্টায় কোনও ফল লাভ হয়নি। বরং তাদের জীবনে আরও বিপদ নেমে এসেছে।
এই ভয়ঙ্কর অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গ্রামবাসীরা নানা রকম যজ্ঞও করেছেন, তবে কেউই মুক্তি পাননি। ফলে প্রতি বছর দীপাবলির সময় সাম্মো গ্রাম অন্ধকারে ডুবে থাকে। এখানে উৎসবের আলোর পরিবর্তে নেমে আসে অন্ধকার, আর গ্রামের লোকজনের মনে বাসা বাঁধে এক ভয়ের আবহ।