দক্ষিণেশ্বরেও
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ১৭০ তম বর্ষের পুজোয় এবারে এসেছে বিশেষ থিমের ছোঁয়া। বাংলার লোকসংস্কৃতির আবহে কালী পুজোর রাতে মুখরিত হতে চলেছে ভবতারিণী মন্দির প্রাঙ্গণ। এই বছর, প্রথমবারের মতো, পুজোর সময়ে মূল মন্দিরের সামনের প্রাঙ্গণে ৫৬ জন মহিলা ঢাক বাজাবেন। এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে নারীদের শক্তি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে। আজ, বৃহস্পতিবার ভোরে মঙ্গলারতির মাধ্যমে শুরু হবে পুজো। রাতভর চলবে চার প্রহরের পুজো, যেখানে থাকবে ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচি নাচ, প্রদীপ আরতি, শঙ্খ এবং উলুর ধ্বনি।
মন্দিরের কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা কুশল চৌধুরী জানান, “বাংলার সংস্কৃতি এবং মহিলাদের স্বনির্ভরতা তুলে ধরার জন্য এ বছরের পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুরনো প্রথা অনুযায়ী পুজো করা হবে, তবে এই অভিনবত্বের মাধ্যমে আমরা কিছু নতুনত্বও আনার চেষ্টা করছি।” দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের চত্বর বাহারি আলোয় সজ্জিত হয়েছে। আলোর মালায় ভাসমান মন্দির চত্বরে বসে ভক্ত এবং দর্শনার্থীরা সারা রাত ধরে পুজো দেখার সুযোগ পাবেন। এখানে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে গোটা দেশ বাংলার সংস্কৃতি দেখতে পারে।
এবারের কালীপুজোতে প্রথা মেনে রাতে গঙ্গায় বান চলে যাওয়ার পরে পুজোর ঘটিতে জল ভরা হবে। এই কাজের জন্য চাঁদনি ঘাটে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং জল পুলিশের বিশেষ দল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। তাঁদের উপস্থিতিতে একটি অর্ধাচন্দ্রাকৃতি বলয় তৈরি করা হবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ঘটিতে জল ভরার পর গঙ্গার ঘাটে কাউকে যেতে দেওয়া হবে না।
মূল মন্দিরে ঘট আনার পর চার প্রহরে ষোড়শপচার শুরু হবে ভবতারিণী পুজো। ভোগ নিবেদন করা হবে অন্ন, পাঁচ রকমের আনাজ ভাজা, পাঁচ রকমের মাছ, পাঁচ রকমের মিষ্টি, দই, পায়েসসহ। মন্দির সূত্রে খবর, কথামৃতের বর্ণনা অনুযায়ী সাবেক সোনার গয়নায় সাজানো হবে ভবতারিণী। সাবেকি ধাঁচে পরানো হবে বেনারসি শাড়ি। আজ ভোর ৫টায় খুলে দেওয়া হবে মন্দিরের সিংহদুয়ার এবং সারা রাত তা খোলা থাকবে।
এবারের কালীপুজোকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ভক্ত এবং দর্শনার্থী মন্দিরে সমাগম করবেন। এই বিশাল ভিড় সামলাতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। শীর্ষ কর্তারা আগেই মূল মন্দির চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নিরাপত্তার জন্য তিনটি নজরদারি টাওয়ার, প্রায় ৪০টি সিসি ক্যামেরা এবং ২০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। সাদা পোশাকের পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড এবং বিশেষ পুলিশ বাহিনীও থাকবে নিরাপত্তার কাজে।
মন্দিরের পরিবেশে চলতে থাকা এই পুজো সত্যিই অন্যরকম। এখানে মহিলাদের ঢাক বাজানো, পুরনো প্রথা মেনে পুজো, এবং নতুনত্বের সংমিশ্রণ সবকিছু মিলিয়ে এক অনন্য সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এবার দক্ষিণেশ্বরের কালীপুজো একটি বিশেষ থিমের আবহে অনুষ্ঠিত হবে, যা সবার মনে দাগ কাটবে।
অর্থাৎ, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের কালীপুজো এবার শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন দিককেও উদ্যাপন করবে। এতে মহিলাদের ক্ষমতা, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সবার জন্য এটি হবে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা।