দেগঙ্গায় আবাস যোজনায় দুর্নীতির নতুন অভিযোগ: গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে সরকারি আধিকারিকরা

দেগঙ্গায় দেগঙ্গা থানার বেড়াচাঁপা ২ পঞ্চায়েতের পশ্চিম যাদবপুর গ্রামে মঙ্গলবার একটি সমীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন সরকারি আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁরা গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখোমুখি হন। দীর্ঘ দিন ধরে…

October 30, 2024
1 min read

দেগঙ্গায়

দেগঙ্গা থানার বেড়াচাঁপা ২ পঞ্চায়েতের পশ্চিম যাদবপুর গ্রামে মঙ্গলবার একটি সমীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন সরকারি আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁরা গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখোমুখি হন। দীর্ঘ দিন ধরে আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার, এবং এর ফলস্বরূপ রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে চাপানউতোর চলছে। লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূল নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে ডিসেম্বরে রাজ্য সরকার আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা দেবে। সেই অনুযায়ী প্রকল্পের সমীক্ষা শুরু হলেও, তা থেকেই নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করছেন যে প্রকৃত দাবিদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারি আধিকারিকেরা পাকা বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা করছেন। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী, আইএসএফ নেতা আমিনুল মোর্তাজা বলেন, “পুরনো তালিকা অনুযায়ী সমীক্ষা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

এদিকে, নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, বাংলা আবাস যোজনার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হবে। তিনি কেন্দ্রীয় আবাস যোজনার কঠোর নিয়মের দিকে ইঙ্গিত করেন যে, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত দরিদ্র মানুষেরা সাহায্য পাচ্ছেন না।

দেগঙ্গায় এর পাশাপাশি, পুরুলিয়া জেলার মানবাজার ১ ব্লকে একই অভিযোগে মহিলারা বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি ছিল, যোগ্যদের বাদ দিয়ে সচ্ছলদের নাম আবাস প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকায় রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রমিক মহল্লার ‘বঞ্চিত’ লোকজন বিডিও-র দ্বারস্থ হয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি করেছেন।

বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী মানবিকতার প্রসঙ্গ তুলে নিত্য আইন প্রণয়ন করে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। আসানসোলে একটি কালীপুজোর উদ্বোধনে এসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “আবাস যোজনাটি শুধুমাত্র রাজনীতি। তৃণমূল অনেক দিন খেতে পায়নি। তাই তারা এই যোজনাটি বিক্রি করতে পথে নেমেছে।”

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কলকাতায় বলেন, ‘‘গ্রাম ও শহর, সব রকমের আবাস প্রকল্পেই দুর্নীতি হচ্ছে। যাঁদের পাওয়ার কথা, সেই মানুষ ঘর পাচ্ছেন না।’’

প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় মন্তব্য করেন, “দুর্নীতির ভূত বোতল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যতই চেষ্টা করুন, ওই ভূত আর বোতলে ঢোকাতে পারবেন না!”

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে আবাস এবং একশো দিনের কাজে রাজ্যবাসীর ন্যায্য পাওনা আটকে বিজেপি পাপ করছে এবং এই নাটক করছে। তিনি বলেন, “রাজ্য একশো দিনের কাজের টাকা দিয়েছে এবং আবাসের টাকাও দেবে।”

এই অবস্থায়, দেগঙ্গায় আবাস যোজনায় নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি সামনে আসছে। গ্রামবাসীদের ক্ষোভ এবং প্রতিবাদ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সরকারী প্রকল্পগুলি বাস্তবে কেমন চলছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম কতটা কার্যকরী হচ্ছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *